নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ২ জুন- বাংলাদেশের রাজনীতি, গণআন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নাম, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ-কে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে তাঁর জন্মভূমি ভোলায়। হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা। আজ মঙ্গলবার তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এই বর্ষীয়ান রাজনীতিককে। দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে তাঁর মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হয়। সেখান থেকে ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জানাজার মাঠে। হেলিপ্যাড থেকে জানাজার স্থান পর্যন্ত সর্বত্র ভিড় করেন হাজারো মানুষ। অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল শোক ও স্মৃতিচারণ।
জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। সেখানেই বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। বাবা মৌলভী আজহার আলী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং মা ফাতেমা খানম ছিলেন গৃহিণী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণ, মেধা ও রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য পরিচিত ছিলেন।
ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ছাত্ররাজনীতিতেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় চারটি ছাত্রসংগঠনকে একত্রিত করে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি শেখ মুজিবুর রহমান-এর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত করতেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ, যা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
১৯৭০ সালে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব বাহিনীর চার প্রধান অধিনায়কের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে নয়বার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা সত্ত্বেও শেষ সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে বিভিন্ন দলের নেতারা তাঁর অবদান স্মরণ করছেন। ভোলার মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জনসেবার এক জীবন্ত ইতিহাস হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au