পারিবারিক বন্ধুর হামলায় পা হারালেন অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি, সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশিসহ সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
শুক্রবার (৫ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ভারতের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি নাগরিক যদি অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দেশটির বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হলেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার আওতায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য তথ্য ও নথিপত্র বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠায়। এরপর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করলে প্রত্যাবাসনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের বিপুলসংখ্যক আবেদন বাংলাদেশের কাছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি হলে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, আমাদের অনেক অনুরোধ এখনও বাংলাদেশের কাছে অপেক্ষমাণ রয়েছে। আমরা আশা করি এবং প্রত্যাশা করি যে, এসব আবেদন যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা হবে। এতে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মাস পর্যন্ত সন্দেহভাজন প্রায় তিন হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত আবেদন বাংলাদেশের কাছে মুলতবি ছিল। এসব আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত।
এর আগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়েও একই বিষয় তুলে ধরেছিলেন রণধীর জয়সওয়াল। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য পাঠানো মোট ২ হাজার ৮৬২টি আবেদন বাংলাদেশের কাছে ঝুলে আছে। এর মধ্যে কয়েকটি আবেদন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব আবেদন অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে বলে দাবি করেছিল নয়াদিল্লি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে অবৈধ অভিবাসন ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রত্যাবাসন প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারত সরকার বলছে, নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যদিকে, এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জোর দিচ্ছে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au