রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে হোটেলের রাঁধুনি কেশব নেগিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার তিন দিন পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসার পর তাকে আটক করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জুন সকালে দিল্লির ফ্লারিশ ইন হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে ২১ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ৯ জন ভারতীয় এবং ১২ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। এছাড়া অন্তত ১২ জন আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে রান্নাঘরের বৈদ্যুতিক চুলা চালুর পর বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় হোটেলের রাঁধুনি কেশব নেগি রান্নাঘরে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে কেশব নেগি দাবি করেন, বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে তিনি হোটেলের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন এবং ঘন ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে তদন্তে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে হোটেলের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা দরজাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায়।
পুলিশের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের কারণে বহু অতিথি ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে যান এবং বের হওয়ার সুযোগ হারান। বিশেষ করে এক দম্পতি বাথরুমে আশ্রয় নিয়েও দরজা খুলতে না পেরে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেশব নেগির এই অবহেলাপূর্ণ পদক্ষেপ দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি আরও বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে এই ঘটনায় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকেও গ্রেফতার করা হয়। হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং ভবনের অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হোটেলের অন্যান্য কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দিল্লির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২২ সালের পর রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিদুর্ঘটনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি দেশজুড়ে হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au