রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার বিচার দাবিতে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। সংগঠনটি বলেছে, গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সংঘটিত ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এগুলো সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সহিংসতার অংশ। এসব ঘটনার বিচার আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে তারা।
বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ স্লোগান তুলে ধরে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রথম দাবি হলো, মে ও জুন ২০২৬ সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
দ্বিতীয় দাবিতে সিলেটে খগেন্দ্র দাস এবং শরীয়তপুরে শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দেশে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনি বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির তৃতীয় দাবিতে দেশের সব মঠ, মন্দির ও শ্মশানের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভাঙচুর হওয়া উপাসনালয় রাষ্ট্রীয় খরচে পুনর্নির্মাণের দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও, শরণখোলা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় একটি স্বাধীন ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন’ গঠনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, গুজব প্রচার এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হেনস্তা বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে ফ্রন্ট।
বিবৃতিতে সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বা ‘রংধনু জাতি’ ধারণাকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে তারা অভিযোগ করে, একটি উগ্রপন্থী ও কুচক্রী গোষ্ঠী সরকারের এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন সংগঠনের উত্থাপিত জাতীয় ৮ দফা দাবির প্রতিও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন, হিন্দু ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে পূর্ণাঙ্গ ফাউন্ডেশনে রূপান্তর, দেবোত্তর সম্পত্তি সুরক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় উপাসনার জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণ, সংস্কৃত ও পালি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি পাঁচ দিনে উন্নীত করা।
জাতীয় ৮ দফার প্রতি একাত্মতা ও সমর্থন
বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন কর্তৃক ধারাবাহিকভাবে উত্থাপিত যৌক্তিক ৮ দফা দাবির প্রতি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট পূর্ণ সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করছে।
দাবিগুলো হলো-
১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
২. সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন: দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন।
৩. সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়: সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও দাবিগুলো সমাধানের জন্য আলাদা একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।
৪. ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর: হিন্দু ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে একটি পূর্ণাঙ্গ হিন্দু ফাউন্ডেশনে’ (বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের জন্যও সমমানের প্রতিষ্ঠান) রূপান্তর করা।
৫. দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ: মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার্থে নতুন আইন প্রণয়ন এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন।
৬. দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ ও হোস্টেলে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আচার পালনের জন্য পৃথক প্রার্থনার কক্ষ বা স্থানের ব্যবস্থা করা।
৭. সংস্কৃত ও পালি শিক্ষার আধুনিকীকরণ: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ডের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন।
৮. ছুটি বৃদ্ধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি বাড়িয়ে পাঁচ দিন করা।
সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আইনের শাসন এবং সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au