অস্ট্রেলিয়া

জামিন পেলেন না ‘আইএস ব্রাইড’, আদালতের পর্যবেক্ষণ ‘সামান্য ঝুঁকিও গ্রহণযোগ্য নয়’

  • 12:19 am - June 19, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২০৪ বার
সিরিয়া থেকে ফেরত আসা আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট নারীকে জামিন না দিতে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৮ জুন- অস্ট্রেলিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কথিত ‘আইএস ব্রাইড’ জেইনাব আহমদের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সামান্য হলেও তা সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে তাকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হবে।

৩১ বছর বয়সী জেইনাব আহমদকে গত মাসে মেলবোর্ন বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থানকালে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এক ইয়াজিদি নারীকে দাসী হিসেবে আটকে রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন।

জামিন শুনানিতে প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট লিসা হ্যানান বলেন, অভিযুক্ত নারী তার চরমপন্থি মতাদর্শ ত্যাগ করেছেন এমন কোনো সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি বলেন, “চরমপন্থি বিশ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সেগুলো পরিবর্তন করা কঠিন। এমন কোনো শর্ত নেই যার মাধ্যমে এই ঝুঁকিকে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। তাই জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলো।”

আদালতে পুলিশ ও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিরিয়ায় অবস্থানকালে জেইনাব আহমদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড এবং অবিশ্বাসীদের হত্যার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তদন্তে এমন বিভিন্ন অনলাইন পোস্ট ও বার্তার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

প্রসিকিউটর অ্যান্ড্রু স্প্রাগ আদালতকে জানান, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। এর মধ্যে রয়েছে একজন মানুষকে দাসত্বে আবদ্ধ রাখা, তার স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার হরণ করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ। এসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, সিরিয়ায় অবস্থানকালে জেইনাব আহমদের পরিবার প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলারে এক তরুণী ইয়াজিদি নারীকে কিনে নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীকে জোরপূর্বক গৃহকর্মে ব্যবহার করা হতো এবং তার ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়।

শুনানিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত নারীর বাবা ওই ইয়াজিদি নারীকে কেনার সময় তাকে ধর্ষণ এবং গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই ঘটনায় জেইনাব আহমদের ৫৪ বছর বয়সী মা কাওসার আব্বাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জেনে-শুনে একজন দাসীকে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি চলতি সপ্তাহে জামিনের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, জেইনাব আহমদ দীর্ঘ সময় আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাস করেছেন এবং সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তার কয়েকজন স্বামী বা সঙ্গী আইএসের যোদ্ধা ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তিনি আইএসের মতাদর্শকে সমর্থন করতেন এবং অমুসলিমদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করতেন বলেও আদালতে দাবি করা হয়।

প্রসিকিউটর বলেন, “সমাজের নিরাপত্তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার পূর্বের বিশ্বাস থেকে সরে এসেছেন, এমন কোনো শক্তিশালী প্রমাণ নেই। ফলে সমাজের জন্য ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান।”

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা আইনজীবী গ্রেস মরগান জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মামলার বিচার শুরু হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এছাড়া জেইনাব আহমদের সাত বছর বয়সী কন্যা সন্তান বর্তমানে মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

তিনি জানান, শিশুটি সিরিয়ার একটি আটক শিবিরে জন্মগ্রহণ করে এবং ছোটবেলা থেকেই যুদ্ধ, সহিংসতা, দারিদ্র্য ও অমানবিক পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। দেশে ফেরার পর এক শিশু মনোবিজ্ঞানী তাকে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি মায়ের প্রতি অত্যন্ত নির্ভরশীল। মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তার মধ্যে অতিরিক্ত উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং আচরণগত সমস্যার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। নতুন পরিবেশে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিরক্ষা পক্ষ আরও দাবি করে, জেইনাব আহমদ বর্তমানে আইএসের মতাদর্শ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সংগঠনটির প্রতি তার গভীর ক্ষোভ রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আইএস এবং সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত পুরুষরাই তাকে জোরপূর্বক উগ্রবাদী পরিবেশে ঠেলে দিয়েছিল।

তবে আদালত প্রতিরক্ষা পক্ষের এসব যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্ত কীভাবে উগ্রবাদে জড়িয়েছিলেন বা পরবর্তীতে কীভাবে সেই মতাদর্শ থেকে সরে এসেছেন, সে বিষয়ে আদালতের সামনে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ও প্রমাণ নেই।

আদালত মনে করেছে, সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি যত সামান্যই হোক না কেন, তা জননিরাপত্তার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটির পরবর্তী শুনানি চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় মামলার অগ্রগতি এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি হবে।

সূত্রঃ দ্য এজ

এই শাখার আরও খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, আতঙ্কে বিদেশগামী যাত্রীরা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)…

সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…

মসজিদে বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য খতিবের, নিরব প্রশাসন

ঢাকার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকার টানপাড়ার জামতলা জামে মসজিদে জুমার বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রসাদ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে মসজিদটির অস্থায়ী খতিব…

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au