কড়া বার্তা জাতিসংঘের।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও সীমান্তবর্তী তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ইসরায়েলকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আইন এবং ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নকরণ (ডিসএনগেজমেন্ট) চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
দামেস্ক সফরকালে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গুতেরেস পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অধিকৃত গোলান মালভূমি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সিরিয়ারই অংশ। তিনি ইসরায়েলকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতিসংঘের প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপর্যস্ত সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বর্তমানে দেশটির মোট মানবিক চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বড় পরিসরের সহায়তা প্রয়োজন।
গুতেরেসের এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৯ সালে তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সফরের পর এই প্রথম কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব সিরিয়া সফর করলেন।
এদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার অধিকৃত গোলান মালভূমির কাছাকাছি দারা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের দুটি গ্রামে ইসরায়েলি সেনারা প্রবেশ করে। এছাড়া কুনেইত্রা অঞ্চলের কৃষিজমিতে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি আল-আরিদাহ গ্রামে লিফলেট ছড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাস্তা অবরোধ বা সেনা চলাচলে বাধা না দেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর আবারও জোর দিয়েছে জাতিসংঘ।