কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তারা যেসব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোর ভূমিকাও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার(২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী।
তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিরোধিতা করার অভিযোগ প্রমাণসহ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চার সদস্যের এই কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান।
এর আগে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন সাদা দল এবং জামায়াতপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)-এর প্রতিনিধিরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের দেওয়া অভিযোগ ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়, বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরও নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ১ আগস্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আন্দোলনকারীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী মহলের ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ৩ আগস্ট নীল দলের ব্যানারে আয়োজিত একটি র্যালি ও মানববন্ধনে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যা, নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিচার দাবি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরই সহিংসতার জন্য দায়ী করা হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই দিন শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীদের এক দফা কর্মসূচি ঘোষণার পর নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়া আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগের কাছে সরবরাহ করা, ১৭ জুলাই জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়তে বাধ্য করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তাদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ৬৮ জন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au