বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে, এটি ভারতের উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত: সজীব ওয়াজেদ জয়

  • 12:45 pm - August 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৫২ বার
সজীব ওয়াজেদ জয়।

মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। একই অনুষ্ঠানে তাঁর ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ “আরেকটি পাকিস্তানে” পরিণত হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি ভারতের জন্যও উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ভারতবিরোধী উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অর্জনগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তাদের বিচার করা সম্ভব হচ্ছে না।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ জন, অথচ সরকারের হিসাবে তা ৮০০ জন। এই দুই পরিসংখ্যানের পার্থক্য নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আরও গভীর অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমিনুল হক পলাশও। তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ অতীতের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৪ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অবৈধ অস্ত্রের চালান আটক করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যা ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মামলাটির পুনঃতদন্ত হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে আদালতের রায় পরিবর্তিত হয়।

বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরাসরি সমুদ্রপথে বাণিজ্য পুনরায় চালু হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে এবং সরাসরি বিমান চলাচলও আবার শুরু হয়েছে।

নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ওপর তাঁর আস্থা রয়েছে এবং তিনি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই দেশে ফিরতে চান। তিনি আরও বলেন, তাঁকে কারাবন্দি করা হতে পারে কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে, তবুও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক দাবি করেন শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে, শিল্প উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে, খেলাপি ঋণ বেড়েছে, দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিনিয়োগ কমে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং বহু ব্যবসায়ী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন অথবা আত্মগোপনে রয়েছেন।

শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ক্ষমতা ছাড়ার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের আন্দোলন ধীরে ধীরে সংবিধানের বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত আক্রমণে পরিণত হয়েছিল এবং বর্তমান প্রশাসন ভিন্নমত দমন করছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তাঁর সরকার সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। তবে পরবর্তী অন্তর্বর্তী প্রশাসন সেই তদন্ত বন্ধ করে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শেখ হাসিনার মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন শুরু থেকেই কেবল ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিল না। তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছিল, কোটা-সংক্রান্ত মামলায় আপিল করেছিল এবং ছাত্রনেতাদের আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্দোলন এক দফা দাবিতে রূপ নেয় এবং সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো সেটিকে সহিংসতা ও নির্বাচনের বাইরে ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, উগ্রবাদের বিস্তার, রাজনৈতিক সহিংসতা, অর্থনৈতিক অবনতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ওপর চাপ বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে, যা কেবল দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সুত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au