গ্রিস উপকূল থেকে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপের উপকূল থেকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শতাধিক অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড ও ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে সুদান ও মিসরের নাগরিকও রয়েছেন। লিবিয়ার উপকূল থেকে নৌকায় করে তারা গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গ্রিসের সংবাদমাধ্যম ডিমোক্রেতিয়া-এর বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে অন্তত ২০২ জন অভিবাসী ক্রিট দ্বীপে পৌঁছেছেন। অভিবাসীদের ধারাবাহিক আগমনে দ্বীপটির প্রশাসন ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট সকালে ইয়েরাপেত্রা এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছে প্রায় ৪০ জন অভিবাসীকে বহনকারী একটি নৌকার অবস্থান শনাক্ত করে ফ্রন্টেক্স। খবর পেয়ে গ্রিক কোস্ট গার্ডের সদস্যরা একটি মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে নৌকাটিতে থাকা অভিবাসীদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই দুটি পৃথক নৌকা থেকে আরও ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২ জন বাংলাদেশি, ৩১ জন সুদানের এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের সবাইকে পরে হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। ক্রিট দ্বীপে অভিবাসীদের আগমন অব্যাহত থাকায় কেন্দ্রটিকে বর্তমানে তাদের সাময়িক আশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিবিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ক্রিটে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন এসব অভিবাসী। বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ছোট নৌকায় করে যাত্রা করায় তাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এদিকে পৃথক এক অভিযানে ৫০ জন অভিবাসী পাচারের অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক দক্ষিণ সুদানি কিশোরকে আটক করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিচালিত একটি উদ্ধার অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোর প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলার নেওয়ার বিনিময়ে লিবিয়ার তোবরুক শহর থেকে তাদের গ্রিসে নিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্রিট দ্বীপে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় এই অভিবাসনপথে মানবপাচার, নৌদুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের পর তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।