হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: যশোরে এক নারী শিক্ষিকাকে অশালীন প্রস্তাব, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত ইশতিয়াক হোসেন যশোর সদর উপজেলার বলিয়া-ভেকুটিয়া এলাকার ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক। অভিযোগকারী নারীও সেখানে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে ওই শিক্ষিকার বিয়ে হয়। তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে অশালীন প্রস্তাব ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাদরাসায় কর্মরত অবস্থায় প্রধান শিক্ষক তাকে নিজের অফিসকক্ষে ডাকেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কক্ষে প্রবেশের আগে তিনি মোবাইল ফোনে অডিও রেকর্ড চালু করে রাখেন।
পরে অফিসকক্ষে গেলে প্রধান শিক্ষক তাকে বিভিন্ন অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকা। এ সময় তাকে ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই কথোপকথনের অডিও মাদরাসার অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের শোনানো হলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক ও কর্মচারীরা পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ মাদরাসায় গিয়ে প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেনকে হেফাজতে নেয়।কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, “এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর প্রধান শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।