রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন,১০ আগষ্ট: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক দফা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হলের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় চার হলের ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হলগুলো থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগ এবং সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে চারটি হলের মোট ৪২ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে হবে। শোকজের জবাব দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যদি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে সংঘর্ষ, ভাঙচুর বা অন্যান্য ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলো তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ করছে। তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন এখনো প্রশাসনের কাছে জমা পড়েনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর শোকজের জবাব এবং তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ও ২৪ জুলাই নারীঘটিত একটি ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এরপর গত ১ আগস্ট কৃষি অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটির জেরে সোহরাওয়ার্দী হল ও ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আরও পাঁচজন আহত হন।
সবশেষ গত ২ আগস্ট রাতে চারটি হলের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে হলের গেট, জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা, বৈদ্যুতিক বাতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরপর এসব সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং আবাসিক হলগুলোর শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা শনাক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্য ও চার সদস্যের দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে না, তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au