চুয়েটের একই পুকুরে ১৫ দিনের ব্যবধানে আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ আগস্ট: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একই পুকুরে ডুবে ১৫ দিনের ব্যবধানে আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী চমক দত্ত এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত দেব। দুজনের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়।
সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে চমক, শান্তসহ কয়েকজন বন্ধু পুকুরে গোসল করতে নামেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে যান চমক ও শান্ত। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা দ্রুত তাদের উদ্ধারে পানিতে নামেন। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে চমককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শান্তকে খুঁজে পেতে আরও প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে।
পানির নিচ থেকে উদ্ধারের পর দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দ্রুত চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহার মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে একই স্থানে আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে চুয়েট ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরপর এমন দুর্ঘটনার পর পুকুরটিতে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুকুরটির পানি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত চমক দত্ত ও শান্ত দেবের মরদেহ তাদের নিজ গ্রাম মৌলভীবাজারে পাঠানোর জন্য দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব বাসে তাদের সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।