পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: এপি
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছে ইমরান খানের দল। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশের পর আদালতের এই নির্দেশ এলো।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। তবে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও তিনি অস্বীকার করে আসছেন।
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে গত বছর থেকেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তার দুই ছেলে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানান। ইমরানের আইনজীবীরাও দাবি করেন, কারাগারে থাকার সময় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। দলের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি আদালতের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আরও আগে হলে ইমরান খানের চোখ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হয়তো হতো না।
জুলফিকার বুখারি আরও বলেন, ইমরান খানের চিকিৎসার বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হন, ততক্ষণ তাকে হাসপাতালে রাখা উচিত।
ইমরান খানের মুখপাত্র নাঈম হায়দার পাঞ্জুথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আদালত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতা হারানোর পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার বা তোশাখানা এবং অবৈধ বিয়েসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়। এসব মামলায় দেওয়া কিছু সাজা এরই মধ্যে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। অন্য কয়েকটি মামলা এখনো আপিল ও বিচারিক পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
ইমরান খান শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দলও দাবি করে আসছে, রাজনৈতিকভাবে তাকে চাপে রাখতেই এসব মামলা ও কারাবন্দির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পাকিস্তানের বাইরেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন ক্রিকেট কিংবদন্তি, ভারতের কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা তার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ইমরান খান পাকিস্তানের রাজনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক চরিত্র। তার প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। বর্তমানে দলটির পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘ব্যাট’ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। ফলে দলটির প্রার্থীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ নির্দেশের ফলে ইমরান খানের দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো তার স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে কেন্দ্র করে আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হলো। এখন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে হাসপাতালে নেওয়া এবং সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টিই সামনে রয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স