বাংলাদেশ

১০ মাস ধরে শহীদ বেদিতে চলছে পাঠদান

  • 3:54 pm - August 19, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৪৭ বার
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার খরখরিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন না থাকায় কখনও শহীদ মিনারের বেদিতে, কখনও টিনের ছাপরায়, আবার কখনও খোলা আকাশের নিচে চলছে শিশুদের পাঠদান।ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার খরখরিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে ১০ মাস আগে। কিন্তু এখনো নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন হয়নি। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকটে বিদ্যালয়টির ১৮১ শিক্ষার্থীকে কখনও শহীদ মিনারের বেদিতে, কখনও টিনের ছাপরায়, আবার কখনও খোলা আকাশের নিচে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে।

শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রচণ্ড গরম, রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে অবস্থান করায় শিশুদের দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতির ওপরও এর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত খরখরিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১০ জন শিক্ষক ও ১৮১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে পিডি-২ প্রকল্পের আওতায় আরও দুটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ২০২৫ সালে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে ওই বছরের নভেম্বর মাসে নিলামের মাধ্যমে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

পুরোনো ভবনটি অপসারণের পর বিদ্যালয়ে ব্যবহারযোগ্য রয়েছে মাত্র দুটি কক্ষ। এর একটি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হয় এবং অন্য কক্ষে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। ফলে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। বাধ্য হয়ে শহীদ মিনারের বেদি এবং দুটি টিনের ছাপরায় গাদাগাদি করে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের ছাপরার নিচে পাশাপাশি বসে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিশুই ঘেমে অস্বস্তিতে পড়ছে। বৃষ্টি বা ঝড় হলে এসব অস্থায়ী স্থানে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে কখনও ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়, আবার কখনও শিক্ষার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জহুরুল ইসলাম বলেন, তীব্র রোদের মধ্যে বসে ক্লাস করতে গিয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে সেখানে ক্লাস করাও সম্ভব হয় না। দ্রুত স্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

সহকারী শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে পাঠদান করাও সম্ভব হয় না। নতুন ভবনের অভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাইকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের জন্য পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে সে সময় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পরে ২০২৫ সালে আবারও নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। অনুমোদন ও বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোস্তফা বলেন, পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সেটি নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়। নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় দুটি টিনশেড ঘর তৈরি করে আপাতত পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। তবে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত কক্ষের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

চিলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালু রাখতে আরও দুটি অস্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কক্ষ নির্মাণের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পিডি-৪ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়টির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, শিগগিরই পিডি-৫ প্রকল্প চালু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই প্রকল্পে বিদ্যালয়টিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য আপাতত অস্থায়ী টিনশেডের কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, দীর্ঘ ১০ মাস ধরে শিশুদের এভাবে অস্থায়ী পরিবেশে পাঠদান করানো কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এই শাখার আরও খবর

বাংলাদেশে যাওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ায় মিলছে ডেঙ্গুর টিকা

মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়েছে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা। বিশেষ করে বিদেশভ্রমণকারীদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশটির স্বাস্থ্য…

দিল্লিতে মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক, আলোচনায় তারেক রহমানের ভারত সফর

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী অনির্ধারিত সফরে দিল্লি গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১টার দিকে এ বৈঠক…

ডেঙ্গুর থাবায় বিপর্যস্ত দেশ, এখন কী করবে সরকার?

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬…

রংপুরের চার খুন: অমীমাংসিত প্রশ্ন

একটি তালাবদ্ধ বাড়ি। কয়েক দিন ধরে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। এক পর্যায়ে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পুলিশ এসে তালা ভাঙার পর…

পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ‘প্রভাবশালী মহলের’ মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর…

নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ উপদেষ্টা জাহেদের, শুনছে না বিক্রেতারা

নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নজরদারি বাড়ানো এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au