বিশ্ব

ইসরায়েলকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি ১০২ সাবেক ফরাসি-ব্রিটিশ কূটনীতিকের

  • 12:43 am - August 24, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৩৮ বার
গাজা সিটির পশ্চিমে শাতি শরণার্থীশিবির-সংলগ্ন ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক ফিলিস্তিনি শিশু। ফাইল ছবি: এএফপি

মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ইসরায়েলের ওপর যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য নিজ নিজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক। তাঁদের অভিযোগ, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্রমেই সংকুচিত করছে।

শনিবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মঁদে প্রকাশিত এক খোলাচিঠিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

চিঠিতে সাবেক কূটনীতিকেরা বলেন, ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০২৫ সালে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সাবেক কূটনীতিকেরা মনে করেন, শুধু স্বীকৃতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে বাস্তব ও জরুরি পদক্ষেপও নিতে হবে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোন্স প্যারি, ফ্রান্সের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক কর্মকর্তা ইভ অবিন দে লা মেসুজিয়ের এবং ডেনিস বোচার্ড। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা আরও কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক এতে স্বাক্ষর করেছেন।

চিঠিতে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস এবং ইসরায়েলি বাহিনী ও পুলিশের মদদে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানানো হয়। এতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ মানবিক চাপ তৈরি করছে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট করছে।

ইরান, কাতার ও ইয়েমেনে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটনও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সেখানে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ আরও সংকুচিত হবে।

গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযানের মধ্যেই সাবেক কূটনীতিকদের এই উদ্যোগ সামনে এল। গত বছরের অক্টোবরে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৮৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

‘কথা নয়, এবার কাজ চাই’

লিবিয়ায় সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট বলেন, চিঠিটির উদ্দেশ্য শুধু নিন্দা বা বিবৃতি নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপের জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা।

আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর মন্ত্রীরা ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছেন। এখন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।

গাজায় ইসরায়েলি সেনারা। ফাইল ছবি: এএফপি

চিঠিতে ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য বন্ধ, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত এবং দেশটির সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহযোগিতা বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে গাজায় সাংবাদিক, কূটনীতিক ও আইনপ্রণেতাদের নিরাপদে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিকেরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও লেবাননে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা তৈরিতে দুই দেশের ঐতিহাসিক দায় রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার নীতিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য বিশ্বাস করে। তাই সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি

পিটার মিলেট ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের একটি অংশ ফিলিস্তিনিদের জর্ডান নদী পার হয়ে জর্ডানে চলে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, এভাবে পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এসব আহ্বানে সাড়া দেবেন কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মিলেট। তবে তাঁর মতে, ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জরুরি।

তিনি বলেন, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেললে দেশটির নীতিনির্ধারণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র-আল–জাজিরা

এই শাখার আরও খবর

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল ১০ প্রাণ, আহত আরও ২০

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই সড়কে ঝরল ১০ প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।…

‘আমি ভয় পাই না’, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা আবারও বললেন শেখ হাসিনা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে…

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানত না সরকার

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিস্তারিত জানতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের দূতাবাস বা…

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণনির্ভর!

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নিত্যদিনের খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না আয়। সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাই ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশের বহু পরিবারকে।…

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার সংকট কেন কাটছে না?

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই—বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধের সমষ্টি হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা কঠিন। দীর্ঘদিনের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au