নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ৫৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ৩২০ ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দেশটি থেকে ১২১ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৫ জনই ভারতীয় নাগরিক।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, শুক্রবার দুপুরে কাঠমান্ডু থেকে ২১ ভারতীয় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। তারা সবাই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে তাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। এরপর তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।দিল্লি বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের সঙ্গে কথাও বলেন।
এদিকে, মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া আরও ৯৬ ভারতীয় চীন সীমান্ত পার হয়ে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছেন জয়সওয়াল।
নেপালের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত আরও সহায়তা পাঠাচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারত থেকে ত্রাণ নিয়ে তৃতীয় একটি বিমান নেপালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বিমানে ১২ থেকে ১৩ টন ত্রাণসামগ্রী থাকবে। পাশাপাশি একটি মেডিকেল দলও নেপালে পাঠানো হয়েছে।
নেপালের বেইলি সেতু মেরামতের জন্য প্রযুক্তিবিদদের একটি দল পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের মতে, সেতুটি দ্রুত মেরামত করা গেলে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারসামগ্রী পৌঁছানো সহজ হবে।
এ ছাড়া উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নেপাল সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জয়সওয়াল।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দেশটি থেকে মোট ১২১ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন:
পর্যটকদের উদ্ধারে নেপাল সরকার, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন পুলিশ এবং পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়।
নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০০ ছাড়িয়েছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে প্রায় ১৪ হাজার ৮২৯ জন নিরাপত্তাকর্মী ও উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে বিপর্যয়ের পর নতুন আরেক সংকটের মুখে পড়েছে নেপাল। বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধারের কারণে মর্গ ও হাসপাতালগুলোতে মরদেহ রাখার জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও দেশটির অনেক এলাকায় নেই।
গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে আকস্মিক ঢল নামে। তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় নদীর পানি ও কাদামাটির প্রবল স্রোতে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হয়।
এরপর থেকেই দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও অব্যাহত রয়েছে।
তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং নতুন করে পানির ঢলের আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সূত্র-আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au