খেলা

হেজাজি থেকে বাবাতুন্দে

বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার এবার বাংলাদেশের ক্লাবে

  • 2:54 pm - August 29, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৫১ বার
বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলার, যাঁরা বাংলাদেশের ক্লাবে খেলেছেন। ছবি: সংগৃহীত

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড মাইকেল বাবাতুন্দে এবার বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে। ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। তাঁর আগমনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে বিশ্বকাপ খেলা বিদেশি ফুটবলারের তালিকায় যোগ হচ্ছে আরও একটি নাম।

২০১৪ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাইজেরিয়ার ম্যাচটির কথা মনে আছে ফুটবলপ্রেমীদের। পোর্তো আলেগ্রের সেই ম্যাচে আহমেদ মুসার গোলে নাইজেরিয়া ম্যাচে ফিরেছিল। গোলটির আগে দারুণ একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন মাইকেল বাবাতুন্দে।

সেই বাবাতুন্দেই এবার খেলবেন বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে। দানিয়েল কলিনদ্রেসের বাংলাদেশে আসার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবারও বিশ্বকাপ খেলা কোনো ফুটবলারকে দেশের ক্লাবের জার্সিতে দেখা যাবে।

বাংলাদেশ কখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। তবে দেশের ঘরোয়া ফুটবলে বিশ্বকাপ খেলা বিদেশি ফুটবলার আসার ঘটনা নতুন নয়। বাবাতুন্দে হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে বিশ্বকাপ খেলা বা বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা পঞ্চম বিদেশি ফুটবলার।

বাংলাদেশের ক্লাবে বিশ্বকাপ তারকারা

বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারদের আগমন ঘটে ১৯৮৭ সালে। ওই বছর ঢাকায় এসেছিলেন ইরানের কিংবদন্তি গোলরক্ষক নাসের হেজাজি এবং ইরাকের সামির শাকির ও করিম মোহাম্মদ।

১৯৭৮ আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন হেজাজি। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড ও পেরুর বিপক্ষে তিন ম্যাচেই খেলেছিলেন তিনি।

কোচ ও খেলোয়াড় হিসেবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন হেজাজি। তবে খেলোয়াড় হিসেবে ঢাকার মাঠে তাঁকে গোলপোস্টের নিচে দেখা গেছে মাত্র একবার। ওই মৌসুমে ঢাকা লিগে আবাহনীর কাছে মোহামেডানের ৩-২ গোলে হারের ম্যাচে গোলরক্ষক ছাইদ হাসান কানন আহত হলে শেষ ২১ মিনিট গোলপোস্ট সামলান হেজাজি। ২০১১ সালে মারা যান এই কিংবদন্তি।

ইরাকের সামির শাকির ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন। প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিকে হেনস্তা করায় ফিফা তাঁকে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করে। এরপর আর ইরাকের হয়ে খেলেননি।

করিম মোহাম্মদও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ইরাক দলে ছিলেন, তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।

সামির ও করিম দুজনই ইরাকের বিখ্যাত ক্লাব আল রশিদের খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৮৭ সালের শুরুতে এশিয়ান ক্লাব কাপের বাছাইপর্ব খেলতে আল রশিদের হয়ে ঢাকায় এসেছিলেন তাঁরা। পরে দুজনই আবাহনীর হয়ে ১৯৮৭ মৌসুম খেলেন।

সামির শাকির পরবর্তী সময়ে আবাহনী, মোহামেডান এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচও ছিলেন। তাঁর কোচিংয়েই ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফে প্রথমবারের মতো সোনা জেতে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবলে সেটিই ছিল বড় আন্তর্জাতিক সাফল্যগুলোর একটি।

এই তালিকায় নাইজেরিয়ার এমেকা ইজিউগোও রয়েছেন। ১৯৮৭ সালে মোহামেডানে যোগ দিয়ে টানা দুই মৌসুম ঢাকার মাঠে খেলেছিলেন তিনি।

এরপর ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান এমেকা। বুলগেরিয়ার বিপক্ষে নাইজেরিয়ার ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ৭৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে কোচ হিসেবেও মোহামেডানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার হিসেবে এসেছিলেন কোস্টারিকার দানিয়েল কলিনদ্রেস। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে খেলেছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০১৮ সালেই বাংলাদেশে এসে বসুন্ধরা কিংসের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কলিনদ্রেস। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কিংস ছেড়ে আবাহনীতে যোগ দেন। আকাশি-নীল জার্সিতে খেলেন দুই মৌসুম।

বাবাতুন্দের বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা

‘সুপার ঈগলস’ নামে পরিচিত নাইজেরিয়া জাতীয় দলের হয়ে ১১টি ম্যাচ খেলেছেন বাবাতুন্দে। তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ খেলা।

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মূল একাদশে খেলেছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে সতীর্থকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পর মাঠেই চোট পান বাবাতুন্দে। তাঁর হাড় ভেঙে যায় এবং অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

এবার ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে বাংলাদেশে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।

বাবাতুন্দে সর্বশেষ খেলেছেন আলবেনিয়ার দ্বিতীয় স্তরের পেশাদার ক্লাব কেএস পোগ্রেদেসিতে। বয়স ও ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায় বিবেচনায় তাঁর আগমন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আবাহনী মনে করছে, তাঁর অভিজ্ঞতা দলের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করবে।

এ মৌসুমে বাবাতুন্দেসহ চার নাইজেরিয়ান ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করেছে আবাহনী। তাঁরা সবাই বর্তমানে নাইজেরিয়ায় রয়েছেন এবং বাংলাদেশে আসার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ভিসা পেলেই ঢাকায় আসবেন তাঁরা।

আবাহনীর কোচ মারুফুল হক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ভিডিও দেখে বাবাতুন্দেকে দলে নেওয়া হয়নি। গত মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিডিও দেখেই তাঁকে পছন্দ করা হয়েছে।

দুই উইংয়েই খেলতে পারেন বাবাতুন্দে। আবাহনীর একজন অভিজ্ঞ উইঙ্গারের প্রয়োজন ছিল বলেও জানান কোচ।

এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের অভিজ্ঞ এই নাইজেরিয়ান ফুটবলার আকাশি-নীল জার্সিতে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।

এই শাখার আরও খবর

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

সিডনি ও পার্থে বিএইচএসএএ’র শারদীয় পূজা পরিক্রমা সম্পন্ন

শতদল তালুকদার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএইচএসএএ’র (BHSAA) শারদীয় দুর্গাপূজা পরিক্রমা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য…

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au