বিশ্ব

প্রচলিত অস্ত্রে ঘাটতি, ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

  • 10:35 pm - August 30, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৪৭ বার
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রকাশ করেছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রশাসন। ফাইল ছবি: এএফপি

প্রচলিত সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাত করা সম্ভব না হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে।

গত শুক্রবার পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জো কেন্ট এসব কথা বলেন।

কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এমনটা ঘটতে পারে, এ কথা ভাবাই অসম্ভব মনে করা বোকামি হবে।’

তাঁর মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। বরং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

কেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যদি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশটিকে ‘পুরোপুরি আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করতে চায়, তাহলে সামনে মূলত দুটি পথ থাকতে পারে। একটি হলো বড় পরিসরে স্থল অভিযান, অন্যটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো চরম পদক্ষেপ।

তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে সেখানে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন কেন্ট।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে শেষ পর্যন্ত গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন সামনে চলে আসে। তাঁর ধারণা, ওয়াশিংটন তাত্ত্বিকভাবে ইরানের পার্বত্য এলাকায় মাটির গভীরে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমিত পারমাণবিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন তথ্য তিনি দেননি।

ইরানকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ট্রাম্প তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে তাঁর প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে যাচ্ছে।

কেন্টের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন এখন সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে সমস্যায় পড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পানিতে তলিয়ে যাচ্ছেন—এমনই এক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশাল বিলবোর্ডে। সম্প্রতি ইরানের তেহরানে। ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে পেন্টাগনের প্রচলিত অস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

কেন্টের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো এই অস্ত্রসংকটের আশঙ্কা। তাঁর মতে, প্রচলিত অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে সীমাবদ্ধতা তৈরি হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য আরও চরম বিকল্প সামনে আসতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পেন্টাগনের গোলাবারুদের সংকটের খবর অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে।

এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’।

এর কয়েক দিন পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় চীনে অবস্থিত ২১টি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করা।

বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তেহরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে একঘরে’ করাই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, প্রচলিত অস্ত্রের মজুত এবং নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের মধ্যেই জো কেন্টের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার মন্তব্য সামনে এসেছে।

তবে তাঁর বক্তব্যকে মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো সিদ্ধান্ত নিলে তার রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক হবে। ফলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নাকি অন্য কোনো কূটনৈতিক পথ বেছে নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এই শাখার আরও খবর

রাষ্ট্রপতির মন্তব্যে হেফাজতের তীব্র প্রতিবাদ, বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক…

পূজায় নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: বায়তুল মোকাররমের খতিব

দেশে বসবাসরত অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক। তবে উদারতা বা…

ঋণ করে বিদেশে পাঠানো ছেলের মৃত্যুদণ্ড, বিচার ও মরদেহ ফেরত চান বাবা

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে নজরুলের বাবা…

৯ মাসে মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭, ধর্ষণের শিকার ৬৫৭ নারী ও শিশু

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, সারা দেশে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার…

অষ্টমী পূজার দিনে গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালা

দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (১৯…

নেতানিয়াহুর পাশে ট্রাম্প, ইরানে নতুন হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে নেতানিয়াহুকে পুনর্নির্বাচিত করার বিষয়ে সরাসরি সমর্থন জানাতে অনীহা প্রকাশ করলেও…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au