রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার এক বক্তব্যে মোদি বলেন, যুদ্ধে পার হওয়া প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়, আর শান্তির পথে প্রতিটি পদক্ষেপ নতুন আশার সৃষ্টি করে।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। একই সময়ে রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলও আমদানি করছে দিল্লি। অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাতে পিছপা হননি নরেন্দ্র মোদি।
দিল্লিতে সংবাদদাতা বিকাশ পাণ্ডের মতে, মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্য ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ভারতকে রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। তবে ভারত সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এই ভারসাম্য বেশ স্পষ্ট। একদিকে ভারত রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো জোটে রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোয়াড জোটেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভারত। ফলে মস্কোর সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখেও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে দিল্লি।
ভারতের প্রতিরক্ষা খাতেও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো রাশিয়া থেকে আসে। ফলে মোদির যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
মোদির বক্তব্যের জবাবে পুতিন সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, প্রধানমন্ত্রী। আমরা এই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।” তবে রুশ প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি বা সময়সীমা পাওয়া যায়নি। এ কারণে বিশ্লেষকদের অনেকে এটিকে অস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
এদিকে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও ক্রেমলিন সামরিক অভিযান কমানোর পরিবর্তে হামলা আরও জোরদার করেছে।
রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো এখনো মনে করছে সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের শর্তে ইউক্রেনকে আলোচনায় বসানো এবং শেষ পর্যন্ত শান্তিচুক্তি করার কৌশলেই এগোচ্ছে রাশিয়া।
ফলে নরেন্দ্র মোদির মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান এলেও অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট নয়। ক্রেমলিনের বর্তমান অবস্থান বলছে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি রাশিয়া সামরিক চাপও অব্যাহত রাখতে চাইছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au