নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের খাবারের বগিতে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) চার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের পাকশী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্বে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রত্যাহার করা চার জিআরপি সদস্য হলেন টিএসআই খোকন ইসলাম, কনস্টেবল ফজলে রাব্বী, গোলাম মোস্তফা ও আশিকুল রহমান। ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দীন-ই-আলমকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অপর সদস্য জিআরপি পুলিশের পরিদর্শক হাফিজ উদ্দিন।
পাকশী রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যান্টিনবয় আবু বকর সিদ্দিককে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে পার্বতীপুর স্টেশন থেকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া ওই নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন ওই নারী। তাঁর গন্তব্য ছিল সিরাজগঞ্জ। তবে ট্রেনটির সিরাজগঞ্জ স্টেশনে যাত্রাবিরতি নেই, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না।
অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জিআরপি সদস্যরা তাঁকে নাটোর স্টেশনে নেমে যেতে বলেন। পরে মাদক কারবারির সন্দেহে তাঁর দেহ তল্লাশির কথা বলে তাঁকে খাবারের বগিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই নারীর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং সাদা কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ট্রেনটি নাটোর স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগে খাবারের বগির বৈদ্যুতিক আলো ও দরজা বন্ধ করে দেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য। এরপর তাঁরা তাঁর শ্লীলতাহানি করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই দুই পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে খাবারের বগির ক্যান্টিনবয় আবু বকর সিদ্দিক ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর ওই নারী মুঠোফোনে তাঁর ছেলেকে বিষয়টি জানান। পরে তাঁর ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ট্রেনটির অবস্থান শনাক্ত করে পার্বতীপুর রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
পরে পার্বতীপুর স্টেশনে ট্রেন পৌঁছালে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে।
এ ঘটনায় ওই নারী সান্তাহার জিআরপি থানায় মামলা করেন। মামলায় ক্যান্টিনবয় আবু বকর সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার পর আবু বকর সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই নারীর সম্মতিতেই তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল।
আদালত তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au