ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান। ফাইল ছবি
আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। তাঁর ধারণা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়কে হামলার জন্য বেছে নিতে পারে তেহরান।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোয়ে হুড বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার ইতিহাস রয়েছে ইরানের। নির্বাচনের সময় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নজিরও রয়েছে দেশটির। জিমি কার্টার থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রেও ইরান এমনটি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, নভেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ ইরানের সামনে তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, মার্কিন ভোটাররা পেট্রোলের দাম নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিষয়টি তিনি আরব দেশগুলোর ভোটারদের রুটির দামের প্রতি সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলনা করেন।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আলোচনা চলছে না উল্লেখ করে জোয়ে হুড বলেন, দুই দেশের মধ্যে কার্যত কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এগিয়ে এলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি বলেন, আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এখন ‘চমকপ্রদ কিছু’ প্রয়োজন। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যদি এমন কোনো উদ্যোগ নিতে না পারে, তাহলে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার খুব বেশি মূল্য থাকবে না।
সমাধানের সম্ভাব্য পথ হিসেবে মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন জোয়ে হুড। তাঁর প্রস্তাব, এসব দেশ তাদের নৌশক্তি নিয়ে উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে অবস্থান নিয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
তিনি বলেন, এসব দেশ যদি ঘোষণা দেয় যে তারা হরমুজ প্রণালি নজরদারিতে রাখবে, কোনো জাহাজে হামলা হতে দেবে না এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধেরও প্রয়োজন হবে না, তাহলে বর্তমান সংকট নিরসনে একটি কার্যকর পথ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা