জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে নিহত ২, নিখোঁজ ৪
শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জাপানের পূর্বাঞ্চল। প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে…
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে নতুন একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ কোটি ডলার দিতে চায়। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, ইরাক ও জর্ডানের কাছ থেকেও সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব পক্ষ অর্থ দিলে তহবিলটির মোট আকার দাঁড়াবে ১ হাজার কোটি ডলার।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত তহবিলের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুনর্গঠন করা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যাতে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থাকে, সে জন্য বিকল্প পরিবহন ও রপ্তানি পথ তৈরিতেও অর্থ ব্যয় করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত তহবিলটির নাম ‘পার্টনারশিপ ফর অ্যালাইড ট্রাস্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ বা ‘প্যাক্ট’ হতে পারে। তহবিলটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সংস্থা, যা বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থায়ন করে এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন প্রথমে ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশকে সম্মিলিতভাবে আরও ৫০০ কোটি ডলার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে তহবিলের মোট অর্থ দাঁড়াবে ১ হাজার কোটি ডলার। তবে কোন দেশ কত অর্থ দেবে এবং সব দেশ শেষ পর্যন্ত এতে অংশ নেবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তহবিল গঠনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। ফলে প্রস্তাবের শর্ত, তহবিলের কাঠামো এবং অংশগ্রহণকারী দেশের তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। রয়টার্সও জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
প্রস্তাবটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি। যুদ্ধের কারণে এ অঞ্চলের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো এবং পরিবহনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় বিকল্প পাইপলাইন, রপ্তানি অবকাঠামো ও অন্যান্য পরিবহনপথ উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বার্তা দিতে চাইছে। তবে তহবিলের মাধ্যমে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ নিয়ে কিছু কর্মকর্তা সতর্কতাও জানিয়েছেন।
তাদের আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি বা দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা না হলে নতুন করে নির্মিত জ্বালানি স্থাপনাগুলো আবারও ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে পুনর্গঠিত অবকাঠামো আবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বড়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাইপলাইন, তেল শোধনাগার ও গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালের ক্ষয়ক্ষতির কথা উঠে এসেছে। এসব অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্গঠনে কয়েক হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ তৈরির বিষয়টি নিয়েও উপসাগরীয় দেশগুলো কাজ করছে। তবে বিকল্প পথগুলোর সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়েও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১ হাজার কোটি ডলারের তহবিল বাস্তবে কীভাবে গঠিত হবে, কোন দেশ কত অর্থ দেবে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে এর ভূমিকা কতটা হবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সুত্রঃ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au