রানি মুখোপাধ্যায়ের মা কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায় আর নেই
বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়ের মা কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস এক…
ধর্মীয় বিশ্বাস বা বিবেকগত কারণে কেউ ‘বন্দে মাতরম্’ না গাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয় বলে পর্যবেক্ষণ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এ বিষয়ে আদালত এখনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি। ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া নিয়ে নতুন আইনি বিধানের ফৌজদারি পরিণতি সংবিধানসম্মত কি না, সেটিই আপাতত পর্যালোচনা করবে আদালত।
মঙ্গলবার কর্নাটকের সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণের করা একটি আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেয়। বেঞ্চে আরও ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা।
কৃষ্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যেখানে নির্দিষ্ট সরকারি, আনুষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের Prevention of Insults to National Honour Act-এ ২০২৬ সালে আনা সংশোধনী নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সংশোধিত আইনে জাতীয় সংগীত বা জাতীয় গান গাওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা কিংবা এ ধরনের গান পরিবেশনকারী সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে আইনটি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক নাগরিককে গানটি গাইতেই হবে, এমন সরাসরি বিধান করেছে কি না, সেটি আলাদা বিষয়।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ১৯৮৬ সালের বিজয় ইমানুয়েল বনাম কেরালা সরকার মামলার রায়ের উল্লেখ করে। ওই মামলায় আদালত বলেছিল, ধর্মীয় বিবেকের কারণে জাতীয় সংগীত না গাওয়া ব্যক্তিকে কেবল সেই কারণে শাস্তি দেওয়া যায় না, যদি তিনি যথাযথভাবে সম্মান প্রদর্শন করেন। মঙ্গলবারের শুনানিতে বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছে, ওই আইনি নীতিই ‘বন্দে মাতরম্’-সংক্রান্ত বর্তমান বিধানের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, ‘বন্দে মাতরম্’ জাতীয় গান কি না বা এর দুইটি না ছয়টি স্তবক সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে আদালত আপাতত হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না। জাতীয় প্রতীক নির্বাচন ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে বলেও আদালত জানিয়েছে।
তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিবেকের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারের সঙ্গে ফৌজদারি শাস্তির বিধানের সংঘাত আছে কি না, সেটি আদালত পরীক্ষা করবে। সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
কৃষ্ণের আবেদনে বলা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম্’-এর পরের কয়েকটি স্তবকে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। ফলে পুরো ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে তাঁর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কৃষ্ণের পক্ষের যুক্তির বিরোধিতা করেন। এ সময় ‘নকশাল মানসিকতা’ নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে সিনিয়র আইনজীবী এস মুরলিধরের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলেছে। মামলাটিতে পরবর্তী শুনানিতে আদালত মূলত ‘বন্দে মাতরম্’ না গাওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তির বিধান কতটা সাংবিধানিক, সেই প্রশ্নটি পরীক্ষা করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au