ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা
হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক বিভাজন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং পরিবর্তিত সামরিক শক্তির প্রেক্ষাপটে শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকটকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো একই বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ, যার কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতা, কার হাতে তা রয়েছে, কার কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।
গুতেরেস বলেন, গত এক দশকে বিশ্বে একের পর এক যুদ্ধ শুরু হয়েছে, বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, মানবিক সহায়তাকর্মীরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে, বৈষম্য বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা দুর্বল হয়েছে।
তিনি বলেন, একুশ শতকে শান্তি শুধু সংঘাত না থাকার নাম নয়। শান্তির জন্য ক্ষমতাকে আইনের মাধ্যমে সংযত করতে হবে। কার জীবন, অধিকার ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি শক্তি হতে পারে না।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিব গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় তিন বছর পরও গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। তার দায়িত্ব পালনের বছরগুলোতে তিনি যে পরিস্থিতি দেখেছেন, তার মধ্যে গাজার হত্যাকাণ্ড ওযুদ্ধ নয়, আইনের শাসনে শান্তির আহ্বান গুতেরেসের ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রাকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেন।
গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজা-সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের পরামর্শমূলক মতামতে গাজায় জাতিসংঘকে তার দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া এবং জাতিসংঘের কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। তিনি সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানান।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে ইউক্রেন জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন করে পরিচালিত একটি ভয়াবহ যুদ্ধের শিকার হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন এবং আবাসিক এলাকা, জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো এবং পরিবহন ব্যবস্থায় হামলার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নিয়েও সতর্ক করেন গুতেরেস। তার মতে, বিশ্বে ক্ষমতার পরিবর্তন এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পথে ঘটছে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষমতার একটি বড় অংশ সরকার থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে চলে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মানুষ ক্রমেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষমতা যন্ত্রের হাতে তুলে দিচ্ছে, যার মধ্যে প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রও রয়েছে।
গুতেরেস বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানবতার স্বার্থে পরিচালিত করতে হবে। জীবন-মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কখনোই পুরোপুরি যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। এআই ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর সুরক্ষা কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো পরিবর্তিত বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারছে না। ফলে বিশ্বের বিভাজনের রেখাগুলো আরও প্রশস্ত হচ্ছে। যুদ্ধ ও শান্তি, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনের বিশ্বের জন্য চারটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন গুতেরেস। বর্তমানে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। আফ্রিকার কোনো দেশ স্থায়ী সদস্য না হওয়ায় মহাদেশটির প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
গুতেরেস বলেন, একুশ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকা ন্যায্য নয় এবং এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। তার মতে, জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নিরাপত্তা পরিষদকে বর্তমান বিশ্বের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে হবে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য দুটি স্থায়ী আসন এবং আরও দুটি অস্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে স্থায়ী সদস্যপদ পেলে ভেটো ক্ষমতার বিষয়টি কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে সংস্কার আলোচনায় বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে।
সবশেষে গুতেরেস বিশ্বনেতাদের সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পেয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au