এশিয়াজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, চাপে সাধারণ মানুষ
এশিয়ার অধিকাংশ তেল আমদানিনির্ভর দেশ চলতি বছরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায়…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে জ্বালানি, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ দেশের উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকার কোনোভাবেই ছাড়বে না ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও চাপের কাছে তেহরান মাথা নত করবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, হুমকি, নিষেধাজ্ঞা কিংবা সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে তার অবস্থান থেকে সরানো যাবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানান। তাঁর ভাষ্য, ইরান সংলাপ ও কূটনীতিতে আগ্রহী, কিন্তু তা কোনো ধরনের হুমকি বা শক্তি প্রয়োগের ভাষার মাধ্যমে হতে পারে না।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তি কোনো নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের একচেটিয়া অধিকার হতে পারে না। ইরানের জন্য শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি দেশের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রয়োজন। তাঁর দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অব্যাহত থাকলেও তেহরান তার অধিকার থেকে সরে যাবে না।
ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেরও জবাব দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান হুমকি ও চাপের কাছে মাথা নত করবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই ইরানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী হতে হয়েছে। তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, দেশের জনগণ ও ভূখণ্ডকে ভবিষ্যৎ হামলা থেকে রক্ষা করার সক্ষমতা তেহরানের থাকতে হবে।
এ সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পেজেশকিয়ান জাতিসংঘে নিহতদের ছবি প্রদর্শন করেন। বিশেষ করে ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত শিশুদের ছবি তিনি অধিবেশনে তুলে ধরেন। জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক অনুসন্ধানেও ওই হামলা নিয়ে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল ও অন্যান্য অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব হামলার আন্তর্জাতিক তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরানকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করা হলেও তেহরানের দাবি, বরং তারা নিজেরাই সন্ত্রাস ও হামলার শিকার। এ সময় তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনাটিও তুলে ধরেন এবং এর আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, গত দুই শতাব্দীতে ইরান কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রথমে হামলা চালায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক শক্তি মূলত নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ইরানের এই দাবিগুলোর কিছু অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্ন বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগও রয়েছে।
সবশেষে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী। তবে সেই আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে, কোনো ধরনের সামরিক হুমকি বা চাপের মধ্যে নয়। পারমাণবিক অস্ত্র প্রত্যাখ্যান করলেও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকার থেকে ইরান সরে যাবে না বলেই জাতিসংঘে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সুত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au