আজ বীরকন্যা প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবস
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী ও প্রথম নারী শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ। ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র…
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। গত ২৫ জুন গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, নাফিজা আক্তার ইকরা ও শিফা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সন্দেহ করা অন্তর মজুমদার পরে গণপিটুনিতে নিহত হন। ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্তকারীদের জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্বর্ণালংকার চুরি, অর্থ লেনদেন, পূর্ববিরোধ এবং অভিযুক্তের মাদকাসক্তির বিষয়গুলো সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এসবের কোনো একটিকে হত্যার নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন।
শুরুতে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পরে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পাওয়া যাওয়ায় লুটপাটই হত্যার উদ্দেশ্য ছিল, এমন ধারণা অনেকটাই দুর্বল হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিহত শাহিনুর বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণালংকার লুটের সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল।
অন্তর মজুমদার ওই পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তিনি একসময় একই ভবনে ভাড়া থাকতেন এবং পরে ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে তাঁর সঙ্গে ওই পরিবারের পরিচয় ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি কেন ওই বাসায় গিয়েছিলেন এবং পরিবারের চার সদস্যকে কেন টার্গেট করা হয়েছিল, তার স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি।
তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্তর মজুমদারের পরিচয় ও তাঁর সঙ্গে নিহত পরিবারের সম্পর্কের বিষয়টি। ঘটনার পর তিনি গণপিটুনিতে মারা যাওয়ায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো তথ্য নেওয়ার সুযোগ পায়নি পুলিশ। তাঁর ব্যবহৃত পরিচয়পত্র নিয়েও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে তদন্তে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের সময় বাসার ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, আগে কোনো বাগবিতণ্ডা হয়েছিল কি না, অন্তরের লক্ষ্য একজন ব্যক্তি ছিলেন নাকি পুরো পরিবার এবং পূর্বপরিচয় থাকা সত্ত্বেও কেন এত ভয়াবহ হামলা চালানো হলো, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
নিহত চারজন হলেন শাহিনুর বেগম, তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজো মেয়ে নাফিজা আক্তার ইকরা এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার। পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান জুনায়েদ ইসলাম শিফাত। তাঁর বাবা মো. কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর শাহিনুর বেগম চার সন্তানকে নিয়ে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে একমাত্র ছেলে শিফাত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় রায়পুর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা করা হয়েছে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায়। অন্যটি করা হয়েছে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায়। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার এতদিন পরও হত্যার কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় রায়পুরবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়ে গেছে। তদন্ত শেষ করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত পরিবারের স্বজন ও স্থানীয়রা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au