জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১ বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে…
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী ও প্রথম নারী শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ। ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে পটাশিয়াম সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন এই বিপ্লবী নারী।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্য সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিনি শুধু সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণই করেননি, নারী বিপ্লবীদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন প্রীতিলতা। তাঁর বাবা জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল অফিসের হেড কেরানি এবং মা প্রতিভা দেবী ছিলেন গৃহিণী।
শিক্ষাজীবনেও অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন প্রীতিলতা। তিনি চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্কসহ ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ইডেন মহিলা কলেজে পড়াশোনার সময় বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯২৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত আইএ পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় পঞ্চম এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। পরে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি চট্টগ্রামের নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রীতিলতা ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। বিশেষ করে নারী বিপ্লবীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র অভিযানে বিপ্লবীদের নেতৃত্ব দেন প্রীতিলতা। ওই সময় ক্লাবটির প্রবেশপথে লেখা ছিল, ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বৈষম্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। অভিযানের পর ফেরার সময় প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হন। ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন।
মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রীতিলতার সাহস, আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বের স্মৃতি আজও ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। তাঁর আত্মাহুতি দিবসে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই বীর বিপ্লবীকে স্মরণ করে থাকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au