আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাও মশালমিছিল করেছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টানা শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যেই নতুন উপাচার্য হিসেবে অনলাইনে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। একই দিনে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে মশালমিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে অনলাইনে উপাচার্য হিসেবে যোগদানের কথা জানান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠান। নতুন উপাচার্য জানান, যথাযথ নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, খুব দ্রুত তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে যাবেন। তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চলমান সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন।
এদিকে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুয়েট ক্যাম্পাসে মশালমিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। মিছিল থেকে সায়েমকে আবারও উপাচার্য পদে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে চুয়েটে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। টানা তিন দিনের কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর তারা সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে চুয়েটের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনও করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেখানে সরকারের প্রতি তাদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা নিরসনের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লেখা হয়। পরে শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়। শিক্ষক সমিতিও মিছিল নিয়ে ওই মানববন্ধনে সংহতি জানায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি জানায়, তারা নতুন উপাচার্যকে চুয়েটে চান না এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি সমর্থন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আমিনুল হক বলেন, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাতকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
অন্যদিকে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত ক্যাম্পাসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ফলে চলমান আন্দোলনের মধ্যে চুয়েটের অচলাবস্থা কীভাবে নিরসন হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।