মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিশ্চিত করতে জোর চেষ্টা স্ক্যালোনির
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখতে তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে আরেকবার মাঠে নামানোর জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। নিজেই…
হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, প্রায় চার সপ্তাহ আগে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন। এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দেশের পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে নেপালের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের পর ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র দেশগুলোর ওপর নতুন করে ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো দরিদ্র দেশের অবকাঠামো জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ধ্বংস হয়ে গেলে তার সমাধান আরেকটি বড় ঋণ হতে পারে না। একইভাবে ছোট ছোট অনুদান দিয়েও এত বড় ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। নেপালের প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অনুদানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহায়তা।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে বালেন্দ্র শাহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেপাল, ভারত ও চীনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। হিমালয় অঞ্চলের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন তিনি।
এই ব্যবস্থার আওতায় স্যাটেলাইটের তথ্য আদান-প্রদান, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় তিন দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা ঝুঁকির একটি বড় সতর্কবার্তা। বন্যায় সড়ক, সেতু, স্কুল, ঘরবাড়ি ও মানুষের জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে নেপালের উন্নয়ন কার্যক্রমও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।
আগস্টের শেষ দিকে নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহ ধসে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে নিচের উপত্যকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার কয়েক সপ্তাহ পরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছিল।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই দুর্যোগের পর ৬ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সন্ধান না পাওয়ায় নিখোঁজদের অনেকেই আর জীবিত নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্যোগের পর নেপালের পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক জরুরি অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সংস্থাটি নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরুর জন্য সর্বোচ্চ ১৭ কোটি ডলার অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে।
তবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সাম্প্রতিক দুর্যোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় শুধু ঋণনির্ভর সহায়তা যথেষ্ট নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পুনর্গঠনে উন্নত ও সক্ষম দেশগুলোকে আরও বড় পরিসরে অনুদানভিত্তিক সহায়তা দিতে হবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au