ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশুসন্তানের সামনে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। ঘটনার বিচার ও প্রতিকার না পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় তাঁর চার বছর বয়সী বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে। তবে ওই নারী ও তাঁর দুই বছর বয়সী ছোট ছেলে অক্ষত রয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি পানের আড়তের পাশে নির্জন স্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই নারীর অভিযোগ।
ওই নারীর অভিযোগ, স্থানীয় পান ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন (৩৫) আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে তাঁকে দুই সন্তানসহ পানের আড়তসংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশুর সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
তাঁর দাবি, এ সময় দুই শিশু কান্নাকাটি ও চিৎকার করলেও তা বন্ধ করা হয়নি। পরে তাঁকে সেখানে রেখে সোহরাব পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত সোহরাব নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় পান ব্যবসা করে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ওই নারীর ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। বাসাভাড়া বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার দুপুরে জৈনা বাজার এলাকার বাসা থেকে বাড়ির মালিক তাঁকে দুই সন্তানসহ বের করে দেন।
এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় উড়ালসেতুর নিচের ফুটপাতে আশ্রয় নেন তিনি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহরাব আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে তাঁকে পানের আড়তের পাশে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
পরদিন বুধবার সকালে তিনি পানের আড়তে গিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে ঘটনার কথা জানান। তাঁর অভিযোগ, গৌতম ও শহীদ নামে দুই পান ব্যবসায়ী টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
ওই নারীর আরও অভিযোগ, ঘটনা কাউকে না জানাতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রকাশ করলে তাঁর দুই সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান ওই নারী। সেখানে গাড়ির নিচে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করলে একটি গাড়ির নিচে পড়ে তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই নারী ও তাঁর দুই বছর বয়সী ছোট ছেলে অক্ষত রয়েছেন।
স্থানীয় পানের আড়তদার মহসিন আলী বলেন, সোহরাব কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় পান ব্যবসা করছেন। ঘটনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওই নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আহত শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।