সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আগে…
OTN Bangla Desk: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কভার করতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত সাংবাদিকদের উদ্দেশে একটি রেকর্ডেড রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত “Bangladesh – Save The Country: People & Democracy” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বক্তব্য প্রচার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে The New Indian Express জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়নি।
২০২৪ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর উপস্থিতি এবং ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিও ভারতের কাছে উত্থাপন করেছে।
রেকর্ডেড বক্তব্যে শেখ হাসিনা বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ করেন।
বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের মানুষ কষ্টে আছে; নারী ও শিশুরাও রক্ষা পায়নি।” এরপর তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে কয়েকটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৪ সালের জুনে ৬.২২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে ৩.১৪ শতাংশে নেমে এসেছে; একই সময়ে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং খেলাপি ঋণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, এগুলো শুধুই পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, কর্মহীন একজন শ্রমিক, বীজ ও সার কিনতে না পারা কৃষক, সন্তানদের কোন বেলার খাবার বাদ দেবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হওয়া মা এবং কাজ না পাওয়া একজন তরুণ স্নাতক।
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে অতীতে নিজের ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তারা আমাকে কয়েকবার নির্মূল করার চেষ্টা করেছে। প্রতিবারই আমি বেঁচে গেছি। এবারও আমি বেঁচে গেছি।”
তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। একই সঙ্গে আটক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্যদের মুক্তি এবং তাঁর ভাষায় “মিথ্যা ও সাজানো মামলা” প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা জড়িত। The New Indian Express এসব অভিযোগকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তিনি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেরও আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “ন্যায়বিচার যদি শুধু এক পক্ষের জন্য প্রযোজ্য হয়, তবে তা ন্যায়বিচার নয়।”
শেখ হাসিনার এই সর্বশেষ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন তাঁকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রশ্ন এবং ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার—দুই বিষয় নিয়েই ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে চাপ রয়েছে। এর আগে আগস্টে দিল্লিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর একটি ভার্চুয়াল বক্তব্যও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au