কঙ্গোতে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৪
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই জেনারেলসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং…
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্বাস আরাগচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে আগামী সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান নতুন কোনো শর্ত বা দাবি তুলছে না। গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে যেসব বিষয় নির্ধারিত হয়েছিল, ওয়াশিংটনকে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
ওই সমঝোতায় পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার, সামরিক হামলা বন্ধ, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সমঝোতার কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও হামলা শুরু হলে ওই উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে যায়।
এদিকে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধুলিস্যাৎ’ করার হুমকি দেওয়ার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই শর্তযুক্ত প্রস্তাব দেওয়া হলো। আরাগচির প্রস্তাবের বিষয়ে রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা চলছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা কমানো এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানের পথ খুঁজে বের করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হুমকি মেনে নেয় না। হুমকি দিয়ে কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাব দ্রুতই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়ে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং তেলের দামও বেড়ে যায়। ফলে এ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
এখন ইরানের দেওয়া শর্তযুক্ত প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে কি না, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির নৌচলাচল এবং পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au