মতামত

আওয়ামী লীগ কি মুসলিম লীগের পরিণতি বরণ করবে?

মতামত:ড. মঞ্জুরে খোদা

  • 10:30 pm - September 26, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৯ বার
আওয়ামী লীগ কি মুসলিম লীগের পরিণতি বরণ করবে। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে একটি পক্ষ বলছে যে, আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না। এই দলটির রাজনীতি শেষ, তারা আর ঘুরে দাড়াতে পারবে না। সাধারণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এমন কথা বললে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতাম না কিন্তু যখন একশ্রেণীর চিন্তাশীল মানুষ ও শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও সমাজতাত্ত্বিকের মুখে শুনি তখন বিষয়টি নিয়ে দ্বিধান্বিত হই এই ভেবে যে, আসলেই কি সেটা ঘটবে? এমন কথা অনেকে বললেও আমি এখানে তাঁদের মধ্য দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মন্তব্য উল্লেখ করছি।

(ক) গত বছর ৪ঠা অক্টোবর ২০২৪ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোন দিন উঠে দাড়াতে পারলে আমি মনে করি যে পড়াশোনা যা করেছি তা সবই বৃথা যাবে। মুসলিম লীগ যেমন বিলুপ্ত হয়ে গেছে আওয়ামী লীগও তেমনি বিলুপ্তের পথে, এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

(খ) এবং ২০শে অক্টোবর ঢাকায় এক আলোচনা সভায় বদরুদ্দীন উমর বলেছিলেন, ”আওয়ামী লীগের সব সংগঠন ধসে গেছে। কেউ যদি মনে করে যে আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসবে, সেটা একেবারেই অসম্ভব। ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগ যেভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল, আওয়ামী লীগও সেভাবে শেষ হয়ে গেছে।”

আওয়ামী লীগের নিশ্চিত বিলুপ্তি নিয়ে তাঁদের মন্তব্যের ভিত্তি হচ্ছে মুসলিম লীগের পরিণতির ইতিহাস। কিন্তু এই একটি বিষয়ই কি একটি দলের ধসে যাওয়ার যথেষ্ট যুক্তি হতে পারে? আমার তা মনে হয় না। এ কারণেই তাদের এমন বক্তব্যে বিষ্মিত হয়েছি এবং সামগ্রিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বুঝতে চেষ্টা করবো আসলেই এই দলটির বিলুপ্তি হয়েছে কিনা? আমার এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন নয় বরং ইতিহাসের নিরিখে বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করা।

দল বিলুপ্ত বলতে কি বুঝায়?

রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত বলতে বোঝায় যে দল রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় নেই বা কার্যত অস্তিত্ব হারিয়েছে। অর্থাৎ দলটির সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে গেছে, নেতা-কর্মীরা আর একসাথে নেই, দলীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে ও জনসমর্থনও নেই। সাধারণত যখন কোন দলের জনসমর্থন থাকে না, সাংগঠনিক কাঠামো একেবারে দূর্বল হয়ে যায়, সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের কোন অস্তিত্ব থাকে না তখন তাকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বলা যেতে পারে। যেমন একসময়ের দূর্দান্ত প্রতাপশালী মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এখন বিলুপ্ত।

(ক) কোনো রাষ্ট্র আইন বা আদালতের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ বা অবৈধ ঘোষণা করলে দলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

(খ) কোনো রাজনৈতিক দল যদি নিজেরাই ঘোষণা করে যে তারা আর সংগঠন হিসেবে থাকবে না সেক্ষেত্রে বিলুপ্তি হতে পারে।

(গ) দল ভেঙ্গে ছোট ও বিভক্ত হতে হতে দূর্বল-শক্তিহীন হয়ে কার্যত অকার্যকর ও বিলুপ্ত হয়।

(ঘ) একটি দল দীর্ঘদিন ভোট, আস্থা ও জনপ্রিয়তা হারিয়ে কার্যত রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে মুছে বিলুপ্ত হতে পারে।

এক কথায় রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত মানে দলটির আর কোনো কার্যকারিতা নেই, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে নেই। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে কি এমন কিছু ঘটেছে? দলটিকে অধ্যাদেশের মাধ্যমে তার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে তার মানে কি দলটি বিলুপ্ত হয়েছে? দল বিলুপ্তির যে ৪টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তার কোনটিই এখানে ঘটেনি। এবার এই বিষয়ের আলোচনায় প্রবেশ করা যাক।

আওয়ামী লীগের জনসমর্থন আছে?

যারা বলছেন আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, ধ্বসে গেছে তাহলে প্রাচীন এই দলটির কোটি কেটি সমর্থকের কি হয়েছে? তারা কোথায় গিয়েছে? জনমত জরিপ কি বলে, এই দল ধসে গেছে? বাংলাদেশের ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া ৪টি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা হয়। সেই নির্বাচনগুলোতে শতকরা হিসেবে আওয়ামী লীগের গড় ভোট ছিল ৩৯ দশমিক ১৩ শতাংশ (১৯৯১ – ৩০.১%, ১৯৯৬ – ৩৭.৪%, ২০০১ – ৪০.০২%, ২০০৮ – ৪৯.০%) ভোট। বলতে পারেন জুলাই আন্দোলনেরপর এই দলটির প্রতি তার সদস্য-সমর্থকরা তাদের মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তা ১০ শতাংশ কমিয়ে দিলেও তাদের ভোটের পরিমান থাকে প্রায় ৩০ শতাংশ। সরকারি পৃষ্টপোষকতায় সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ জরিপে দেখা যায় আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন আছে ১৮.৮০ শতাংশ মানে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের। তাহলে যারা বলছেন দলটির বিলুপ্তি হয়েছে, তারা কোন বিবেচনায়- বলতে পারেন? উল্লেখিত তথ্য বলছে এই দলের এখনো বিশাল জনসর্থন আছে।

আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনীতি কি আছে?

এই দলটি ধর্মনিরপেক্ষতা (?), বাঙালি জাতীয়তাবাদ, উদার গণতন্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দলটি যদি বিলুপ্ত হয় তাহলে এই দলের রাজনীতির কি হবে? বিজ্ঞান বলে এক স্থানের বায়ু শূণ্য হলে অন্যস্থানের বাযু সেই স্থান দখল করে। সেই সূত্রে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শূণ্যতা কে পুরণ করবে? বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প কি কোন রাজনৈতিক দল-ধারা দৃশ্যমান আছে? নেই। সেটা না থাকলে এই দলের সমর্থক-নেতাকর্মীরা কোথায় যাবে, কাকে সমর্থন করবে?

আওয়ামী লীগের পলিটিক্যাল ক্যাপিটাল (রাজনৈতিক ভিত্তি/পুঁজি) তিনটি;

(১) ৭১ তথা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুরক্ষা এবং প্রতিষ্ঠা

(২) সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার ও তাদের অভিভাবকত্ব

(৩) বাঙালি জাতীয়তা ও সাংস্কৃতির স্বাধীনতা।

বাঙালি সংস্কৃতি বলতে বাঙালির সংস্কৃতির কৃষ্টি-ধারার আবহমান বিষয়কে বুঝানো হয়। এখানে ইসলামি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধেরও একটি ধারা প্রবল হচ্ছে। প্রধানত এই তিনটি জায়গাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুঁজি। এই ক্ষেত্রে তাদের বিকল্প যদি কোন প্লাটফর্ম থাকতো তাহলে হয়তো এই দল অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতো কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি-বাস্তবতা সেই দাবী করে না। যে কারণে তার আবেদন এখনই শেষ হয়ে গেছে সে কথা বলা কঠিন।

বাংলাদেশের রাজনীতিকে মোটা দাগে চারটি ধারায় ভাগ করা যায়।

(ক) ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে, (খ) অসাম্প্রদায়িক ধারা, (গ) ইসলামপন্থী ধারা ও (ঘ) বামপন্থী-প্রগতিশীল ধারা।

এই চার ধারাকে আবার মোটাদাগে- দুই ভাগ ভাগ করা যায়।

(১) ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে (২) ধর্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে।

সেটাই আবার ভিন্ন সমীকরণে ভারতপন্থী ও ভারত বিরোধী বা পাকিস্তানপন্থী বলা হয়ে থাকে। এই চার ধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে দুই শিবিরে ভাগ করা যায়।

(১) আওয়ামী লীগ ও উদারগণতন্ত্রী, বামদলগুলোর একটি শিবির (২) বিএনপি-জামাত ও ইসলাম দক্ষিনপন্থী দলগুলোর আরেকটি শিবির (যদিও বিষয়টি এতটা সরলও নয় ক্ষমতার সমীকরণের প্রশ্নে)।

তাহলে আওয়ামী লীগের অবর্তমানে কি তারা কোন বামদল বা বলয়ে যুক্ত হবে? বামদলগুলোর অবস্থা-বাস্তবতা সেই কথা বলে না। বামদলগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, ৭২এর সংবিধান ও মূলনীতির দিক থেকে সিপিবিকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মনে করা হয় কিন্তু আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কোথাও ঝাকে ঝাকে সিপিবিতে যোগ দিয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি। এমনি কিছু হওয়ার সম্ভবনাও নেই। সেটা না হলে স্বাভাবিক ভাবেই ধরে নেওয়া যায় তারা কোথাও, কোন দলে, বলয়ে যায়নি তারা তাদের পূর্ব অবস্থানেই আছে। তারা হয়তো নিজেদের এই দুঃসময়ে সিপিবিতে আশ্রয় নিতে পারতো যদি এই দলটির সেই সাংগঠনিক শক্তি-সামর্থ থাকতো। বাংলাদেশের বামপন্থী দলগুলো যদি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বহুধা বিভক্ত, ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র শক্তিহীন না হয়ে- একটি বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে থাকতো তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন রকম হতে পারতো।

তাহলে আওয়ামী লীগের এই সেক্যুলার ধারা কি বিএনপি বা জামাতে গিয়ে ভিড়বে? মতাদর্শগত কারণে সেই সুযোগ নেই। তবে এই বিপদে আত্মরক্ষার্থে কৌশলগত কারণে তারা লীগের প্রতিপক্ষ শিবিরে ভিড়তে পারে কিন্তু সেই সংখ্যা-পরিমান হবে সীমিত ও সাময়িক। জুলাই আন্দোলনেরপর এনসিপিসহ নতুন যে দলগুলো আত্মপ্রকাশ করেছে, সেগুলোও দক্ষিনপন্থী রাজনৈতিক ধারার যার সাথে তাদের অবস্থান বিপরীতে। আর ইসলামপন্থী দলগুলোর তাদের ভাবনা ও অবস্থান কোন ভাবেই তাদের পক্ষে নয়। সঙ্গতই আদর্শগত কারণে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নিজ দল ছাড়া আপাতত অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগ আগেও দু’বার নিষিদ্ধ হয়েছিল

স্বাধীনতার আগে আওয়ামী লীগকে দু’বার (১৯৫৮ ও ১৯৭১) নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই দলের নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। ১৯৭৫ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই দলের প্রধান ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর তাদের ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়। ১৯৯৬এর নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় এলেও ২০০১এর নির্বাচনে তারা পরাজিত হয়। সংসদে বিরোধী দল থাকা অবস্থায় ২০০৪ সালে সরকার বিরোধী এক সমাবেশে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করা হয়। তিনি বেঁচে গেলেও ২৪ জন নিহত হন। এরপর ব্যাপক আন্দেলন-সংগ্রামের পর তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলটি ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি হয়ে ওঠেন এক ভয়ঙ্কর কর্তৃত্বপরায়ন শাসক।

নিষিদ্ধ করলেই কি কোন দল বিলুপ্ত হয়ে যায়?

অধ্যাদেশ দিয়ে, ষড়যন্ত্র করে কোন দলকে সাময়িক দূর্বল করা গেলেও শেষ করা যায় না। সেটা করা গেলে অনেক দল বিলুপ্ত হয়ে যেতো। যেমন একসময় কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল, জামায়াতে ইসলামীকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তাদের উপরও দমনপীড়ন ছিল তারা দূর্বল হয়নি বরং শক্তিশালি হয়েছে। বিএনপির উপরও সীমাহীন দমন-পীড়ন ছিল, লাখ-লাখ নেতাকর্মী মামলায় ঘর ছাড়া ছিল, জেলখানায় ছিল। বিএনপি কি শেষ হয়েছে? আবার কিছু দলকে নিষিদ্ধ করতে হয়নি কিন্তু তারা কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেমন মুসলিম লীগ, ন্যাপ, কৃষক-প্রজা পার্টি প্রভৃতি। কোন দলের বিলুপ্তি নিয়ে অনুসিদ্ধান্তে আসার আগে রাজনৈতিক দলের বিলুপ্তি, টিকে থাকা বা শক্তিশালি হয়ে ওঠার ঐতিহাসিক পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে আওয়ামী লীগকে নিয়ে যারা এমন কথা বলছেন- তাদের বলার ভিত্তি কি?

তবে এক অর্থে এই দল ধসে গিয়েছিল বলেই শেখ হাসিনার এমন করুন পরিণতি হয়েছে। তিনি দলটিকে ক্ষমতাকেন্দ্রীক না করে জনকেন্দ্রীক রাখতেন- তাহলে হয়তো তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারতেন। সেটা না পারলেও হয়তো নিজেকে পালাতে বা পুরো দলকে আত্মগোপনে যেতে হতো না।

মুসলিম লীগের বিলুপ্তি

এক সময়ের প্রতাপশালী সংগঠন মুসলিম লীগের কেন বিলুপ্ত হলো? মুসলিম লীগের বিলুপ্তি নিয়ে তিনটি কারণ উল্লেখ করা যায়।

প্রথমত: যে ইসলামী জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের ভিত্তিতে এই দলের সৃষ্টি হয়েছিল, বাংলাদেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে মুসলিম লীগের বিলুপ্তি হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত: মুসলিম লীগ যে ধারার রাজনীতি করতো বিএনপি অনেকটাই সেই ধারার রাজনীতি ধারক হওয়ায় এই দলের বিলুপ্তি ত্বরান্বিত হয়েছিল। পার্থক্য হচ্ছে বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ও মুক্তিযুদ্ধের ধারার একটি রাজনৈতিক দল, আর মুসলিম লীগ ছিল ইসলামী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী দল। দক্ষিনপন্থী মুসলিম লীগের রাজনৈতিক দর্শণের বিপরীতে- স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় বিএনপি’র আত্মপ্রকাশ ও উপস্থিতি- মুসলিম লীগের রাজনীতিকে অপ্রাসঙ্গিক করেছিল। ভাসানী ন্যাপের প্রায় পুরো অংশ বিএনপিতে যুক্ত হয়েছিল। এবং বিএনপিকে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছিল।

তৃতীয়ত: মুসলিম লীগের মূলনেতৃত্ব ছিল পাকিস্তান ভিত্তিক ক্ষমতাসীনদের দল। তাদের সংযোগ, অনুপস্থিতি ও রাজনৈতিক পরাজয়ের মাধ্যমে বিলুপ্তি ঘটে। কিন্তু মুসলিম লীগের বিভিন্ন ধারা আজো পাকিস্তানের মূল ধারার রাজনীতিতে সক্রীয়। শুধু তাই নয় পাকিস্তানে বর্তমানে মুসলিম লীগ ক্ষমতাসীন একটি রাজনৈতিক দল। এই দলের সভাপতি শাহবাজ শরীফ বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

জামায়াতে ইসলামি কেন বিলুপ্ত হলো না?

স্বাধীনতা বিরোধী দল মুসলিম লীগের বিলুপ্তি হলেও গনহত্যায় অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন বিলুপ্তি হলো না? তারা কিভাবে, কোন যুক্তিতে টিকে আছে? শুধু টিকেই আছে না, তারা এখন বাংলাদেশের ক্ষমতার কাছাকাছি। জামায়াতের অপরাধ কি মুসলিম লীগের চেয়ে কম? বরং তাদের চেয়ে অধিক। এই দলের নেতৃত্বেই ভয়ঙ্কর রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা প্রণয়ন ও কার্যকর করেছিল। ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যার সহযোগী ও তিন লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্টের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত। এই কারণে কি তাদের কোন অনুশচনা আছে? তারা কি অনুতপ্ত, ক্ষমা চেয়েছে? নেতৃত্বের পরিবর্তন করেছে? করেনি। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকেই তাদের দলের আমীর নিযুক্ত করেছে। যারা মুসলিম লীগের বিলুপ্তি নিয়ে অনেক কথা বলেন তারা জামায়াতে প্রভাব-অস্থিত্ব নিয়ে কিছু বলেন না কেন? জামায়াতের অপরাধের সাথে কি আওয়ামী লীগের অপরাধের তুলনা চলে? তারা যদি স্বাধীনতার ৫০ বছর পর ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে তাহলে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় ফিরবে না কোন যুক্তিতে? একশ্রেণীর কপট বুদ্ধিজীবী গণহত্যার অভিযোগে- আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে কথা বলেন, তারাই আবার আওয়ামী লীগের চেয়ে লক্ষগুণ অপরাধী জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার অধিকার ও নিষিদ্ধ নিয়ে কোন কথা বলেন না। বিষয়টি কি বিষ্ময়ের নয়?

ন্যাপ কেন বিলুপ্ত হলো?

মুসলিম লীগের বিলুপ্তি না হয় বুঝলাম কিন্তু মৌলানা ভাসানী ও মুজাফ্ফর আহমদের ’ন্যাপের’ কেন বিলুপ্ত হলো? তাদের রাজনীতি কি ভুল ছিল? মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রভাবশালী দল ছিল এ দুটি। কারচুপি সত্ত্বেও ১৯৭৩এর নির্বাচনে বামঘরনার ন্যাপ ও জাসদের ভোটের পরিমান ছিল প্রায় ২০ শতাংশ, যা ছিল আজকের ইসলাপন্থী দলগুলোর সম্মিলিত ভোটেরও অধিক।

আওয়ামী লীগের অপরাধ সীমাহীন কিন্তু..

আওয়ামী লীগ তার শাসনামলে অনেক বড় বড় ভুল, অন্যায়, অপরাধ করেছে। কিন্তু জুলাই আন্দোলনেরমহা বিপর্যয়ের পরও কি এই দলের নেতাকর্মীরা ঝাকে ঝাকে দল থেকে পদত্যাগ করেছে? অন্য দলে যোগ দিয়েছে? দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নীচ পর্যন্ত কোন দুঃখ, গ্লানি-অনুশোচনা আছে? ক্ষমা চেয়েছে? প্রকাশ্যে নেতৃত্বকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছে? তাদের পরিবর্তন বা নতুন নেতৃত্ব চেয়েছে? না চায়নি, এগুলোর কিছুই হয়নি। তারমানে এই দলের সমর্থক, সদস্য ও নেতাকর্মীরা দল ছেড়ে কোথাও যায়নি। পতিত নেতৃত্বকে মেনে নিয়ে নিয়েই মাটি কামড় দিয়ে এই দলের ব্যানারেই আছে।

৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন? লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের নামে মামলা হয়েছে? হাজার হাজার বাসাবাড়ি, ব্যবসা ধ্বংস করা হয়েছে। দমন পীড়ন ও মবের শিকার হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী আত্মগোপনে আছেন। এই সময়ে সারা দেশে ছোট-বড় শত শত মিছিল সংগঠিত হয়েছে? এবং মিছিলের সংখ্যা ও পরিধি দিন দিন বাড়ছে তারপরো যখন বলা হয় এই দল বিলুপ্ত হয়ে গেছে তখন আর বলার কিছু থাকে না?

আওয়ামী লীগ বহুবার ভেঙ্গেছে

রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হওয়ার একটি প্রধান কারণ বহুবার ভাঙ্গন। আওয়ামী লীগও বহুবার ভেঙ্গেছে। এই দল ভেঙ্গে ন্যাপ হয়েছে, ন্যাপ আবার ছয় বার ভেঙ্গেছে। আওয়ামী লীগ দল ভেঙ্গে জাসদ হয়েছে, জাসদ ভেঙ্গে বাসদ হয়েছে উভয় দল আবার বহুবার ভেঙ্গেছে। আওয়ামী লীগে ভেঙ্গে আওয়ামী লীগ মিজান, কামাল, আতাউর হয়েছে। এই দল ভেঙ্গে বাকশাল হয়েছে। এই দল ভেঙ্গে গণ আজাদী লীগ, ডেমোক্রেটিক লীগ হয়েছে। মোট কথা বহুবার এই দল ভেঙ্গেছে। দল ভেঙ্গে যারা চলে গেছে, তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ মূল দল হিসেবে টিকে আছে, তাদের বিলুপ্তি হয়নি। এত ভাঙ্গা-গড়া ও চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে টিকে থাকার এই সক্ষমতা কি দলটির ইতিহাস প্রমাণিত সত্য ও বাস্তবতা নয়?

অভ্যুত্থানের ছয় মাস পর (১০ মে ২০২৪) আওয়ামী লীগের সকল কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়। নিষিদ্ধ করার পরও এই দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার-পতাকা নিয়ে মিছিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে- সরকার তাদের তৎপরতা রোধ করতে তাদের ধরিয়ে দিতে জন প্রতি ৫ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করে। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের বাসা-বাড়ি ভাড়া না দেয়ার আহ্বান জানান ইত্যাদি। তারমানে দলের নেতাকর্মীদের জেলে পুরে, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে, হুলিয়া-নির্যাতন করে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে, বাড়ি-ব্যবস্যা থেকে উচ্ছেদ করে, পুরষ্কার ঘোষণা করেও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। বরং সারা দেশে এই বিপদজনক পরিস্থিতিতেও তারা মিছিল করছে এবং তার পরিধি ও পরিমান দিন দিন বাড়ছে। আর বিদেশে তাদের তৎপরতা লক্ষ্যনীয়। এই পরিস্থিতিতেও যে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকরা সংগঠনের প্রতি তাদের আস্থা, আনুগত্য ও বিশ্বাস রাখে সেই দলকে কিভাবে বলা হয় যে এই ধ্বসে গেছে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে?

পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব

বাংলাদেশে যে দলগুলো বিলুপ্ত হয়েছে তা তাদের নীতি-আদর্শের দূর্বলতার কারণে হয়নি, হয়েছে নেতৃত্বের সংকটের কারণে। মৌলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর তাঁর দল ন্যাপের নেতৃত্ব দেয়ার মত তেমন নেতা না থাকায় দলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। বাংলাদেশের দু’টি প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মূল নেতৃত্ব নিহত হওয়ার পর একই সংকট তৈরী হয়েছিল। নেতৃত্বের সংকটে দলগুলোতে বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে দলকে রক্ষা করতে উত্তরাধিকার সূত্রে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়, এবং এই দল দু’টি এখনো টিকে আছে পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্বের কারণে।

সেই বিবেচনায় শেখ হাসিনা যতদিন কর্মক্ষম আছেন ততোদিন তিনিই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকবেন কিন্তু তিনি যে পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়েছেন, সেখান থেকে দেশে ফিরে নেতৃত্ব দেয়ার ঘটনা সহসাই ঘটবে, এমনটা মনে হয় না। আর তাঁর অবর্তমানে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে কেউ দলের নেতৃত্ব দিতে চাইলে সফল হবে না, অতীত ইতিহাস তাই বলে। এমতাবস্থায় বলা যায় সহসাই এই দল বিলুপ্ত হবে এমনটা নয়। তবে তার জন্য নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিম্নস্তরে যে বিপুল আত্মশুদ্ধি ও আত্মউপলব্ধির প্রয়োজন তার কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

১৩। অন্যান্য দলের সাথে এই দলের পার্থক্য

অন্যান্য দলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে আওয়ামী লীগের পার্থক্য হলো’ এই দলটির নেতৃত্বে এ দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। সেই স্বাধীনতার ভাল-মন্দ স্মৃতি, চেতনা, বেদনা ধারণ-বহন করার বিপুল শক্তি আজো এই দলটির প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। এবং তা কয়েক প্রজন্ম ধরে চলমান। তার অনুপস্থিতিতে সেই ধারার রাজনীতির এক বড় শূণ্যতা। সেই শূণ্যতাই এই দলটিকে আরো বহু বছর টিকিয়ে রাখবে, যত দিন না বিকল্প কোন শক্তি গড়ে উঠবে।

আওয়ামী লীগ কোন পাট গাছ নয় যে টান দিলেই উঠে যাবে

বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়ের সাথে আওয়ামী লীগের মতাদর্শিক রাজনীতির একটি নিবিঢ় সম্পর্ক আছে। যে কারণে এই দর্শণের বিকল্প কোন রাজনৈতিক ধারা গড়ে না উঠলে এই দল সহসাই বিলীন হবে এমনটা ভাবা কঠিন। আওয়ামী লীগ কি কোন পাট গাছ নয় যে তাকে টান দিয়েই তুলে ফেলা যাবে? এটি একটি বট গাছ তাকে উপড়ে ফেলা কঠিন, কেননা এর শেকড় অনেক গভীরে। তিন-চার প্রজন্মের দল-সংগঠন এটি। যে কারণে এই দলকে সহসাই শেষ হয়ে যাবে না। বিপুল প্রতিকূলতার মধ্যেও বর্তমানে তাদের তৎপরতা সে কথা প্রমাণ করে।

শেখ হাসিনার পতন

কোটার দাবীতে করা আন্দোলন দ্রুতই কর্তৃত্বপরায়ন শাসক শেখ হাসিনা পতনের এক দফা আন্দোলনে পরিণত হয়। শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে অল্প সময়ের মধ্যে শতশত মানুষকে হত্যা ও হাজার হাজার ছাত্র-জনতার আহত ও অঙ্গহানি ঘটানো হয়। এর প্রতিবাদে লক্ষ লক্ষ বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। তিনি আকাশ পথে ভারতে পালিয়ে গেলে তাঁর দলও আত্মগোপনে চলে যায়। এই সময়ে অভ্যুত্থানকারী পক্ষ ও হাসিনা বিরোধী দলগুলো গণভবন, সূধাসদন, ৩২ নাম্বারসহ আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া হাউসগুলো ধ্বংস ও দখল করে নেয়া। মেট্রোরেল, বিটিভিসহ অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ, অনেক পুলিশকেও হত্যা করা হলেও কোথাও কোন প্রতিবাদ হয়নি। সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার পক্ষ নিয়ে অভ্যুত্থানকে সফল করে।

শেখ হাসিনার পতনের কারণ

(ক) শেখ হাসিনার পতনের প্রধান কারণ নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা,

(খ) সরকার প্রশাসন ও বিচারবিভাগকে মাত্রাহীন দলীয়করণ,

(গ) লুটপাট, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও দখল,

(ঘ) গুম-খুন ও বিরোধীদের উপর জেল-জুলুম নির্যাতন,

(ঙ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামের দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধী মত দমন ও ট্যাগিংয়ের রাজনীতি,

(চ) আওয়ামী লীগকে পদবাণিজ্যের মাধ্যমে শেকড়হীন, সুবিধাাবাদী ও ক্ষমতাবান্ধব করে ফেলা,

(ছ) নেতৃত্বের অসংলগ্ন কথাবার্তা, ভারতপ্রীতি, ব্যবসায়ী, স্তাবক বুদ্ধিজীবী ও আমলা নির্ভরতা প্রধানত।

আওয়ামী লীগ পরবর্তি বাস্তবতা

শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে কিছুটা শৃঙ্খলা ছাড়া রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে কোন পরিবর্তন হয়নি। দেড় বছরেও সেই অবস্থার কোন পরিবর্তন তো হয়ইনি বরং দেশে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি, মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান, নির্বাচন নিয়ে টানাপোড়েন, সরকার-প্রশাসন ও ক্ষমতা নিয়ে সংঘাত, দখল-দুর্নীতি, হত্যা-খুন, চুরি-ছিনতাই বন্ধ হয়নি। প্রতিপক্ষের উপর দমন-পীড়ন-হয়রানি চলমান, বন্ধ হয়নি। বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসনের ভয়াবহ সংকট তৈরী হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে। বিদেশি শক্তির আনাগোনা ও দৃশ্যমান তৎপরতায় মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর মানুষ তার বিপরীত চিত্র আশা করেছিল কিন্তু ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ ও সংস্কৃতিতেও কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ক্ষমতাকেন্দ্রীক কামড়াকামাড়ি, দখল-আধিপত্য ও স্বার্থ-সুবিধার রাজনীতি অব্যাহত। অন্তর্বর্তী সরকার সমাজ-রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য যে সংস্কার প্রস্তাব-উদ্যোগ নিয়েছিল তারও কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটেনি। ক্ষমতামূখী দলগুলো নির্বাচনের নানা শর্ত-জটিলতা সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।

আওয়ামী লীগ কিভাবে প্রাসঙ্গিক?

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের দুঃশাসনে জনগণ অতিষ্ঠ ছিল। সমাজের সর্বস্তরেই নানা ধরণের অন্যায়, অনাচার, অবিচার, বৈষম্য, জুলুম, নির্যাতন ছিল। ছিল ভয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। গড়ে উঠেছিল ব্যাংক দখলের মত এক মাফিয়া লুটেরা অর্থনীতি। ভোট, নির্বাচন বলে একটা বিষয় ছিল তাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই শেখ হাসিনার শাসনামলের এমন কোন খারাপ উদাহরণ নেই যা বর্তমানে অনুসরণ করা হচ্ছে না। শিল্প-সংস্কৃতি, ভাষ্কর্য-স্থাপত্য, মাজার ধ্বংস করা হচ্ছে, নারীদের অপমান, লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। মামলা-হামলা, কারাবন্দী, মব, দখল, অগ্নিসংযোগ, সহিংসতা চলছেই। আর এই দলটির নেতাকর্মীদের উপর অন্যায় জুলুম-নির্যাতন তাদের প্রতি মানুষের সহানূভূতি তৈরী করছে। ৫ আগস্টের পরপরই এই দলটির জনপ্রিয়তা ছিল একেবারে তলানিতে। কিন্তু গত দেড় বছরে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে অনেক। ক্রোধে-ক্ষোভে মানুষকে বলতে শোনা যায় লীগের আমলেই ভাল ছিলাম। বাঙালি আত্মবিস্মৃত জাতি। যে কারণে ৭১এ জামায়াতের মানবতার বিরুদ্ধে বিপুল অপরাধ মানুষ ভুলতে বসেছে। মানুষ তার সাথে ঘটা তার শেষ অপরাধটাই অধিক মনে করে পূর্বেরটা ভুলে যায়। শাসকের ব্যর্থতাই তাদের দিন দিন এই দলের নেতাকর্মীদের ঘুরে দাড়ানোর সাহস যোগাচ্ছে। অভ্যুত্থান পরবর্তি সরকারের ব্যর্থতারই আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

এই দলকি কি রাজনীতিতে ফিরতে পারবে?

ইমাম দূশ্চরিত্র হলে ধর্ম বিশ্বাস মিথ্যা হয়ে যায় না। নেতৃত্বের কারণে দলের অনেক ক্ষতি হয় সত্য কিন্তু তাৎক্ষনিক ধসে যায়, তা বলা যায় না। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরতে অনেক বাধা আছে। যেমন; (ক) এই দলের শীর্ষনেতা থেকে শুরু করে নীচু পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। (খ) তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য ও নেতৃত্ব কারাবন্দী আছেন ও বিদেশে অবস্থান করছেন। (গ) এই দলের কর্মকান্ডকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (ঘ) এই দলের এখন কোন সাংগঠনিক কাঠামো সেই অর্থে নেই তা ভেঙ্গে পড়েছে। (ঙ) তাদের সামনে যে সকল বাধা আছে তা কিভাবে মোকাবেলা করবে এবং ২৪এর জুলাই অভ্যুত্থানাকে কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে সেই প্রশ্ন-কৌশল গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার দু’টি পথ আছে (১) স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতিতে ফিরে আসা। স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে, সংসদীয় পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফেরা। সেক্ষেত্রে প্রথমে তাদের অনেকগুলো জটিল ও কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে। আর (২) গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা। সেক্ষেত্রে তাদের জুলাই আন্দোলনেরঅনুরূপ আরেকটি গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই পথ অনেক দূরের ও কণ্টকিত।

স্বৈরাচার শাসকরা কি ক্ষমতায় ফিরতে পারে?

একটা প্রচার আছে, বিশ্বের যে সব থেকে কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে তারা আর ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারেনি। এই কথা পুরোপুরি সত্য নয়। যেমন ১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফের্দিনান্দ মার্কোসের এক ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন ঘটলেও তাঁর পতনের প্রায় তিন দশক পর তাঁর ছেলে (পিএফপি দলের নেতা) ফের্দিনান্দ মার্কোস বংবং ২০২২ সালে রাষ্ট্রপতি পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। বংবং ৩ কোটি ১০ লাখ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি পান ১ কোটি ৪৬ লাখ ভোট।

লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত ও নির্মমভাবে নিহত মোয়ায়েম গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল–ইসলাম গাদ্দাফি তাঁর পিতার আদর্শে পিএফএলএল (Popular Front for the Liberation of Libya) (PFLL) রাজনৈতিক দলকে সংগঠিত করেন। তাঁর আদর্শ লিবিয়ায় ইসলামিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধেও এই দল সক্রীয় ছিল। ২০২১ সালে লিবিয়ার নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাকে অযোগ্য করায় তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। সেখানে গাদ্দাফির মতাদর্শে বিশ্বাসী একাধিক রাজনৈতিক দল সক্রীয় আছে, তাদের একটি লিবিয়ান পপুলার ন্যাশনাল মুভমেন্ট।

ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার মোয়ায়েম গাদ্দাফির যখন ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হন তখন বিশ্বের কোথাও প্রতিবাদ হয়নি কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে ছিল ব্যতিক্রম। তাঁর দলের সমর্থকরা তাঁর ক্ষমতাচ্যুতিতে সারা বিশ্বেই প্রতিবাদ করেছে এবং একে দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছে। শুধু প্রতিবাদ নয়, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনূস ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে, অপমান করেছে। বিদেশের মাটিতে তঁদের চলাফেরাকে সীমিত করেছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে থেকে বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার প্রদানের মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছেন। যে বিষয়টি অন্যান্য কর্তৃত্বপরায়ন শাসকের ক্ষেত্রে ঘটেনি।

বদরুদ্দিন উমর ও সলিমুল্লাহ খানদের চিন্তার সীমাবদ্ধতা

বদরুদ্দিন উমর অনেক বড় বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি জীবনে অনেক দল-জোট গঠন করেছেন এবং ভেঙ্গেছেন কিন্তু কোনটাই ঠিক মত গড়তে পারননি। তিনি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতবানী করতে পারেন কিন্তু নিজের রাজনীতির পরিণতিটি বলতে পারেননি। আওয়ামী লীগ ধসে যাওয়ার যে ভবিষ্যৎ বাণী তিনি করলেন তার ভিত্তি কি তা তিনিই জানেন। মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, ”বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের লিখিত ইতিহাস যা আছে, তার প্রায় ৯০ ভাগই মিথ্যা”। সন্দেহ নেই যে, তিনি শতকরা হিসাবে ১০০ ভাগের মধ্যে ৯০ ভাগই বুঝিয়েছেন। সেই হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা হয় ৩৩ হাজার ৩ শত ৩৩ জন! সেটা কি আসলেই বিশ্বাসযোগ্য? তিনি কি তাই বিশ্বাস করতেন? আওয়ামী লীগের ধসে যাওয়া নিয়ে তিনি যে ভবিষ্যৎবাণী করেছেন, তার বুঝ-বিশ্বাস এর চেয়ে ভাল আর কি হবে? আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই কথা তিনি এমন এক সময় বলেছেন, যখন স্বাধীনতা বিরোধীরা এর সকল অর্জনকে নস্যাৎ করার চেষ্টা, আয়োজন করছেন।

সলিমুল্লাহ খান একজন বিদ্যান-পন্ডিত ব্যক্তি হলেও তিনি অবলীলায় বলে যান, রবীন্দ্রনাথ বাংলা জানেন না, আধুনিক ভাষাতত্ত্বের জনক নোম চমক্সিও ভাষার কি বোঝেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ও শিক্ষকের মান উন্নত, ড. কামালরা সংবিধানের কি বুঝেন ইত্যাদি। বহু বিষয়ের ভুল তথ্য দিয়ে তিনি আলোচিত হয়েছেন, অনেকে অবশ্য তাঁর সে সব ভ্রান্ত ধারণার তথ্য-প্রমাণ দিয়ে ভুলও প্রমাণও করেছেন। তেমনি তিনি কোন তথ্য-উপাত্ত, জরিপ-গবেষণা ছাড়াই যদি বলেন যে, আওয়ামী লীগ মুসলিম লীগের মত বিলুপ্ত হয়ে গেছে, ‘সে কথা ঠিক না হলে তাঁর শিক্ষা মিথ্যা..’ সেক্ষেত্রে উনার সাথে অতীতের অনেক ভুল বিষয়ের মত এটা নিয়ে তর্ক না করাই শ্রেয়।

বাংলাদেশের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী যখন আওয়ামী লীগের পরিণতি বলে দিচ্ছে, ভবিষ্যৎবাণী করছেন তখন মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাকারী দেশ, পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডন ’ক্রস রোডে বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয়তে বলছেন; ”বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সরকার অপসারণ এবং ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি বেসামরিক অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের ফলে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আশা জেগেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই প্রতিশ্রুত নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার উপর ছায়া ফেলেছে।

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা এবং দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক (inclusive) হতে হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর শিকড়-গাঁথা প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সহজে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। দলটি এখনো বাস্তব এক রাজনৈতিক শক্তি, যার রয়েছে বিপুল সমর্থনভিত্তি। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা বাংলাদেশের নাজুক গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করবে এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেবে।” ( ডন, ১৫ মে ২০২৫)

ডনের সম্পাদকীয় যখন বলে, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা যাবে না তখন এই বুদ্ধিজীবীরা কিভাবে বলেন, এই দল ধসে গেছে, বিলুপ্ত হয়ে গেছে! সেটা কি তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক দূর্বলতা না কোন অজানা অপ্রাপ্তির গ্লানি ও ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ?

ড. মঞ্জুরে খোদা, লেখক–গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 

এই শাখার আরও খবর

বিএনপি-আওয়ামী লীগকে অকার্যকর করে নতুন সরকার? ‘মাইনাস টু’ পরিকল্পনার অভিযোগ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে কথিত ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা…

জাসদ কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান, আটক সাংবাদিক আবু জাফর সূর্য

ঢাকার গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক আবু জাফর সূর্যসহ বেশ কয়েকজনকে…

এশিয়াডে চতুর্থ সোনা ভারতের, ইরানকে হারিয়ে কবাডিতে চ্যাম্পিয়ন ছেলেরাও

এশিয়ান গেমসে কবাডিতে জোড়া সোনা জিতেছে ভারত। মেয়েদের পর এবার পুরুষদের ফাইনালেও ইরানকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছে ভারতীয় দল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত…

ইউনূসের বক্তব্য মূল অধিবেশনে নয়, সাইড ইভেন্টে: মাসুদ কামাল

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে একটি হলরুম ভাড়া নিয়ে সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটি সাধারণ পরিষদের…

মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর-লুটপাট, গ্রেপ্তার ৪

ঢাকার মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা-পুলিশ। শনিবার দুপুরে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা…

আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থানে ভাস্কর্য নয়, বসছে ফোয়ারা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au