বাংলাদেশ

১/১১ ফেরানোর ষড়যন্ত্রের দাবি

বিএনপি-আওয়ামী লীগকে অকার্যকর করে নতুন সরকার? ‘মাইনাস টু’ পরিকল্পনার অভিযোগ

  • 11:18 pm - September 26, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৯৭ বার
তারেক রহমান(বামে), শেখ হাসিনা(ডানে)। ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে কথিত ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘বিতর্কিত, ব্যর্থ ও অকার্যকর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করার একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে একটি কথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ গোষ্ঠী।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি একটি ‘অরাজনৈতিক সরকার’ গঠনের রোডম্যাপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ওই কথিত পরিকল্পনায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী খলিলুর রহমান, আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সেনাবাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিকল্পনাটিতে তুরস্কের অর্থায়ন এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উপাচার্য মেজর জেনারেল মাহবুবুল আলমের বাসভবনে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আজমী এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রটির দাবি।

আবদুল্লাহিল আমান আজমী সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের ছেলে। অন্যদিকে হাসিনুর রহমানও সাবেক সেনা কর্মকর্তা, যিনি সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডিত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এখন একই ধরনের রাজনৈতিক নির্বাসন বা রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রটির দাবি।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ওই গোষ্ঠীর ‘গভীর যোগাযোগ’ রয়েছে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে। তার উদ্যোগেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে এতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে এরদোয়ান ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক দুটি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের কথিত ‘নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি’ থেকে সরিয়ে একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করাই ওই বৈঠক আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রটির দাবি।

পাকিস্তানি দুই সামরিক কর্মকর্তার সফর নিয়েও অভিযোগ

প্রতিবেদনটিতে পাকিস্তানের দুই সেনা কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ আকরাম ও মেজর মোহাম্মদ আজিজ বাত্রির বাংলাদেশ সফর নিয়েও নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রটির দাবি, তারা ১০ দিনের গোপন সফরে বাংলাদেশে আসেন এবং চট্টগ্রামসহ কয়েকটি সেনানিবাসে অবস্থান করেন। এ সময় তারা বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি’ নিয়ে বৈঠক করেন।

ওই সূত্র দুই কর্মকর্তাকে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কর্মকর্তা বলে সন্দেহ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ ছাড়ার আগে তারা মাহমুদুর রহমান, আজমী ও হাসিনুর রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

তবে তাদের বাংলাদেশ সফর, সফরের উদ্দেশ্য কিংবা আইএসআইয়ের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বাধীন কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে নেই।

জাতিসংঘে তারেকের বক্তব্যের সময় নিয়েও প্রশ্ন

প্রতিবেদনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সভাপতিত্বের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার পরের সময় দেওয়া হয়।

তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার কিছু আগে নিউইয়র্কে পৌঁছান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পরে বক্তব্য শুরু হয়। প্রতিবেদনের দাবি, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে সময় নির্ধারিত থাকলেও বক্তব্য শুরু হয় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সে সময় সাধারণ পরিষদের কক্ষে উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঞ্চে ছিলেন না। নিউইয়র্কের সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে বক্তব্য শুরু হওয়ার সময় বাংলাদেশে তখন রাত পেরিয়ে ভোর ৪টা ১৮ মিনিট।

এ কারণে খলিলুর রহমান ইচ্ছাকৃতভাবে তারেক রহমানকে সাধারণ পরিষদের তুলনামূলক কম উপস্থিতির সময়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এটিকে প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিকভাবে বিব্রত করার একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বক্তব্যের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও অন্যান্য বিবেচনা কী ছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো স্বাধীন প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

জাইমা রহমানের নিয়োগ নিয়েও ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ অভিযোগ

প্রতিবেদনে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগের বিষয়টিও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

দাবি করা হয়েছে, খলিলুর রহমানের সুপারিশে জাইমা রহমানকে ওই পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয় এবং এ নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। একই সঙ্গে জাইমার বেতন বাংলাদেশ সরকার বহন করবে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির ভেতরেই কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা করে খলিলুর রহমান মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চেয়েছেন।

বিশেষ করে ২৪ সেপ্টেম্বর, যেদিন তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল, সেদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাইমা রহমানের নিয়োগের খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিবর্তে তার মেয়ের নিয়োগ নিয়ে জনমত ও গণমাধ্যমের মনোযোগ চলে যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

‘১/১১’ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার অভিযোগ

প্রতিবেদনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আবারও ‘১/১১’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা সূত্রটির দাবি, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মেজর জেনারেল মাহবুবুল আলমের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খলিলুর রহমান ও মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি একটি ‘অরাজনৈতিক সরকার’ গঠনের সম্ভাব্য রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ পরিকল্পনায় সেনাবাহিনী ও জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থনকারী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের অর্থায়ন এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কথিত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা বলে গোয়েন্দা সূত্রটির দাবি।

তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, সেনাবাহিনী, জামায়াতে ইসলামী, তুরস্ক বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে নিশ্চিত বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সেনাপ্রধানকে ঘিরে নানা অভিযোগ

প্রতিবেদনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে।

আবদুল্লাহিল আমান আজমী ও হাসিনুর রহমান অতীতে সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং সেনাপ্রধানের ওপর তাদের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোর ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে অক্টোবরের মধ্যে নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হবে।

তবে এসব দাবির বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর, আইএসপিআর, সেনা সদরদপ্তর বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোয় ‘ইসলামিক কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন’

এদিকে বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোর ভেতরে একটি ‘ইসলামিক কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন’ সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার শওকত ওসমানকে সম্প্রতি এই জোটের নেতা হিসেবে আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উগ্রবাদী ও ইসলামি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রটি আরও দাবি করেছে, সামরিক বাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক চেহারায় পরিবর্তন, বিশেষ করে দাড়ি বা মুখের লোম সংক্রান্ত পরিবর্তনের পেছনেও কথিত ‘ইসলামিক কাউন্টার টেররিজম’ অভিযান ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো নথি, সরকারি নির্দেশনা, প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা স্বাধীন সূত্রের তথ্য দেওয়া হয়নি।

অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই হয়নি

পুরো প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি একটি ‘নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রের’ দাবি। সেখানে বৈঠক, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা, পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের সফর, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ এবং নতুন অরাজনৈতিক সরকার গঠনের পরিকল্পনার মতো গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে।

কিন্তু এসব অভিযোগের অধিকাংশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে এগুলোকে আপাতত গোয়েন্দা সূত্রের দাবি ও অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘মাইনাস টু’ শব্দটি সাধারণত প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৭-০৮ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় ‘মাইনাস টু’ ধারণাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। নতুন এই প্রতিবেদনে সেই পুরোনো রাজনৈতিক ধারণাকেই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও সামরিক পুনর্বিন্যাসের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে কথিত এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সংগঠিত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং এর কোনো বাস্তব সাংগঠনিক বা রাষ্ট্রীয় ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য স্বাধীন ও বহুমাত্রিক যাচাই প্রয়োজন।

সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ

এই শাখার আরও খবর

জাসদ কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান, আটক সাংবাদিক আবু জাফর সূর্য

ঢাকার গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক আবু জাফর সূর্যসহ বেশ কয়েকজনকে…

আওয়ামী লীগ কি মুসলিম লীগের পরিণতি বরণ করবে?

জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে একটি পক্ষ বলছে যে, আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না। এই দলটির রাজনীতি শেষ, তারা আর…

এশিয়াডে চতুর্থ সোনা ভারতের, ইরানকে হারিয়ে কবাডিতে চ্যাম্পিয়ন ছেলেরাও

এশিয়ান গেমসে কবাডিতে জোড়া সোনা জিতেছে ভারত। মেয়েদের পর এবার পুরুষদের ফাইনালেও ইরানকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছে ভারতীয় দল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত…

ইউনূসের বক্তব্য মূল অধিবেশনে নয়, সাইড ইভেন্টে: মাসুদ কামাল

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে একটি হলরুম ভাড়া নিয়ে সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটি সাধারণ পরিষদের…

মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর-লুটপাট, গ্রেপ্তার ৪

ঢাকার মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা-পুলিশ। শনিবার দুপুরে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা…

আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থানে ভাস্কর্য নয়, বসছে ফোয়ারা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au