দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই মাসে ১০ নারীর মরদেহ উদ্ধার
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় একুরহুলেনি এলাকায় গত দুই মাসে ১০ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তেম্বিসার ভুসিমুসি এলাকায়…
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তার আশঙ্কা, সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তি অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন মানুষের হাতে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যার পরিণতিতে বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস এসব সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রযুক্তিটির ব্যবহার হলে এর ক্ষতির মাত্রা ব্যাপক হতে পারে।
গেটস বলেন, এআই এমন ঘটনা ঘটানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যার পরিণতিতে ১০০ কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। যদিও এমন ঘটনা প্রায় নিশ্চিতভাবে ঘটবে, তা বলা কঠিন। তবে তার মতে, অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন মানুষের হাতে এত শক্তিশালী প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সমন্বয় এর আগে কখনো ছিল না।
এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গেটস। তার মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা নির্ধারণে আইনপ্রণেতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
বিল গেটস বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে প্রযুক্তি খাতের ওপর কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব ও চাপ তৈরি হলেও এআই উন্নয়নের গতি নাটকীয়ভাবে কমে যাবে না বলেও মনে করেন তিনি।
গেটসের এই সতর্কবার্তার কয়েক দিন আগেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যালান টিউরিং ইনস্টিটিউট এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে একটি উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এমন ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ এআই ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানগত কাজে মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, এআই এমন কৌশল তৈরি করতে সক্ষম হয়ে উঠলে, যেগুলোর কার্যকারিতা ও ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে না, তাহলে এসব প্রযুক্তির ওপর কার্যকর মানব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এআইয়ের সম্ভাব্য রাসায়নিক ও জৈবিক ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য পরিবেশ এবং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের উন্নয়নে সাময়িক বিরতি দেওয়ার প্রস্তাবের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরাপত্তা মূল্যায়ন, অভিন্ন নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং চীনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনও চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআইয়ের কারণে মানবজাতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। একই প্রতিষ্ঠানের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের প্রধান ইভান হাবিঙ্গারও আগামী এক দশকের মধ্যে এমন ঘটনার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন ব্যক্তির এসব সতর্কবার্তার মধ্য দিয়ে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, মানব নিয়ন্ত্রণ এবং অপব্যবহার ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au