এথেন্সের প্লাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে দোতলা ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য। ছবি : এপি
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি দোতলা ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। এ ঘটনায় পাশের একটি ভবনের দুই নারীও আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্লাকা এলাকার একটি দোতলা ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়ে। শনিবার উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে অভিযান চালিয়ে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত চার মার্কিন নাগরিকের কাছে পাওয়া নথি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা দুই পুরুষ ও দুই নারী। নিহত অপর দুজন ছিলেন ভবনটির দ্বিতীয় তলায় বসবাসকারী এক বয়স্ক দম্পতি। তাদের একজন ব্রিটিশ পুরুষ এবং অন্যজন গ্রিক নারী।
গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় পাশের একটি ভবনের দুই নারী আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের প্রভাবে আশপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে এসব ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের প্রভাব শুধু ঘটনাস্থলের সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না, আশপাশের সড়কেও তা ছড়িয়ে পড়ে। দুটি সংলগ্ন ভবন এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলোও ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাতিমেরিনির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত চার মার্কিন পর্যটকের শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে এথেন্স ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল। তবে বিস্ফোরণের কারণে তারা আর সেই ফ্লাইটে উঠতে পারেননি।
ঘটনার পর বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় এক বছর আগে প্লাকা এলাকার বাসিন্দাদের একটি দল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও গ্যাস লিকেজের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় পৌরসভা এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল বলে জানা গেছে।
কাতিমেরিনিতে প্রকাশিত ওই চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত রয়েছে, তা যাচাই করতে নিরাপত্তা মহড়ার আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এদিকে ‘উই রিমেইন অ্যাকটিভ’ নামের একটি নাগরিক সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, বিস্ফোরণস্থলের কাছাকাছি এক বাসিন্দা কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করেছিলেন।
গ্রিক পুলিশের এক মুখপাত্র ইআরটিকে জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা তারা জানেন। তবে গ্যাসের গন্ধের উৎস কী ছিল এবং ঠিক কোন পদার্থ থেকে ওই গন্ধ এসেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্লাকা এথেন্সের অ্যাক্রোপলিসের পাদদেশে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক এলাকা। প্রাচীন স্থাপনা, সরু সড়ক ও পর্যটন আকর্ষণের কারণে এলাকাটি দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানে সাময়িকভাবে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা