গুরুতর আহত অবস্থাতেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা হামলাকারীকে ধাওয়া করে ধরার চেষ্টা করেন। ৯নিউজ
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে দায়িত্ব পালনের সময় গলায় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র ১০ সপ্তাহের মাথায় রোববার সকালে এ হামলার শিকার হন ৪০-এর কোঠায় থাকা ওই কর্মকর্তা।
হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থাতেও সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে টেজার প্রয়োগ করে থামান তিনি। এ ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে প্রশংসা করেছে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ ইউনিয়ন।
পুলিশ জানায়, রোববার ভোর ৬টার আগে ব্রিসবেনের পূর্বাঞ্চলীয় হেম্যান্ট এলাকার বোগং স্ট্রিটের একটি বাড়িতে পারিবারিক বিরোধের খবর পেয়ে দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বাবা ও ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

কুইন্সল্যান্ড পুলিশ ইউনিয়নের সভাপতি শেন প্রায়র ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তিনি আহত কর্মকর্তা ও তার সহকর্মীর সাহসিকতার প্রশংসা করেন।ক্যাথরিনস্ট্রোহফেল্ড
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই কর্মকর্তার একজনের ওপর হামলা চালানো হয়। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ ইউনিয়নের সভাপতি শেন প্রায়র জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি তার সঙ্গে থাকা একটি বস্তু বের করে ওই কনস্টেবলের গলায় এবং শরীরের ওপরের অংশে ছুরিকাঘাত করেন। একই সময় তার সহকর্মীর হাতের আগ্নাতেও আঘাত লাগে।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রায়র বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় গলায় হাত দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেও ওই কর্মকর্তা হামলাকারীকে ধাওয়া করেন এবং টেজার ব্যবহার করে তাকে থামাতে সক্ষম হন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় তাকে ধাওয়া বন্ধ করতে হয়।
পুলিশ ইউনিয়নের সভাপতি ওই কর্মকর্তা ও তার সহকর্মীর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “এই কর্মকর্তা একজন নায়ক।”
কুইন্সল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কর্মীরা আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রিন্সেস আলেকজান্দ্রা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার অবস্থা ছিল সম্ভাব্য জীবনসংকটাপন্ন।
পুলিশ ইউনিয়নের সভাপতি জানান, তিনি আহত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তার অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন স্ক্যানের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ছুরিকাঘাতের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
৯নিউজ
তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুব সহজেই ওই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণ হতে পারত। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গেছে, আহত কর্মকর্তা গত জুলাইয়ে পুলিশ প্রশিক্ষণ শেষ করে দায়িত্বে যোগ দেন। অর্থাৎ হামলার সময় তার চাকরির বয়স ছিল প্রায় ১০ সপ্তাহ। তিনি বিবাহিত এবং তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।
হামলায় ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সূত্র: নাইন.কম.এইউ