রামু হামলার ১৪ বছর, বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের
কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময়েও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা…
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্থনি আলবানিজের চেয়ে ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসনকে বেশি পছন্দ করছেন ভোটাররা। নতুন নিউস্পোল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুইন্সল্যান্ডে পছন্দের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হ্যানসনের সমর্থন ৫২ শতাংশ, যেখানে আলবানিজের সমর্থন ৪৮ শতাংশ।
দ্য অস্ট্রেলিয়ানের জন্য করা নিউস্পোলের ত্রৈমাসিক বিশ্লেষণে একই সময়ে কুইন্সল্যান্ডে লেবার পার্টির প্রাথমিক ভোট ৩০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোটও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বেড়েছে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউস্পোলের সমন্বিত ফল আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডে ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোট ৩৬ শতাংশে উঠেছে। নিউ সাউথ ওয়েলসে ৩১ শতাংশ, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ৩১ শতাংশ, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ২৯ শতাংশ এবং ভিক্টোরিয়ায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ান নেশনের সমর্থন বিশেষ করে ৩৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেই এমন ভোটারদের মধ্যেও দলটির সমর্থন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। পাশাপাশি ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যেও দলটির সমর্থন বাড়ছে বলে নিউস্পোলে উঠে এসেছে।
পলিন হ্যানসন কুইন্সল্যান্ডেরই রাজনীতিক এবং দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোট বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছানোর পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, দলটি বিকল্প সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় এবং এ পথ দীর্ঘ হলেও তারা সেই লক্ষ্য ধরে রাখবে।
অন্যদিকে, হ্যানসনের জনপ্রিয়তা বাড়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এর আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ওয়ান নেশনকে বিভাজনমূলক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দলটির বাড়তে থাকা সমর্থন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।
এদিকে, হ্যানসন সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে ২০২৫ সালের একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারের বক্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আদিবাসীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন এবং স্কুলে আদিবাসী ইতিহাস পড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও তিনি তাঁর বক্তব্যের মূল অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
হ্যানসন অভিবাসন নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন। বন্ডাইয়ে প্রাণঘাতী হামলার প্রসঙ্গে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসননীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দেশটিতে অভিবাসনের প্রভাব নিয়ে আরও কঠোর নীতি প্রয়োজন বলে মত দেন। তাঁর এসব বক্তব্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বিতর্কও হয়েছে।
তবে কুইন্সল্যান্ডে পছন্দের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হ্যানসন এগিয়ে থাকলেও নিউস্পোলের প্রতিবেদনে ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোটকে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সমর্থনের সমতুল্য হিসেবে দেখানো হয়নি। ফলে পছন্দের প্রধানমন্ত্রী সংক্রান্ত এই ফল এবং দলীয় ভোটের হিসাবকে আলাদা সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au