রামু হামলার ১৪ বছর, বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের
কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময়েও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা…
বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে গত ২০ মাসে অন্তত ৯২০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মরদেহের অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অপরাধের পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাধবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মীরা।
বাংলাদেশ রিভার পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ এজ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সারাদেশের নদ-নদী থেকে ৫৪১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আরও ৩৭৯টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২০ মাসে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৯২০।
নদ-নদী থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এসব মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে এবং মরদেহগুলো কোথা থেকে নদীতে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্তের জটিলতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
অপরাধবিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য স্থানে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতে পারে। নদীর স্রোতে মরদেহ মূল ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে চলে যাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্থান ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
নদীতে মরদেহ ফেললে তদন্ত জটিল হয়
নিউ এজ-এর প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হলে তদন্তে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়। স্রোতের কারণে মরদেহ ভেসে গিয়ে মূল ঘটনাস্থল থেকে দূরে চলে যেতে পারে। এতে মরদেহ উদ্ধারের স্থান এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্থানের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।
ফলে ভুক্তভোগী কোথায় মারা গেছেন, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সেসব বিষয় নিশ্চিত করতে তদন্তকারীদের অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
শুধু নদী থেকেই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের তথ্যও সামনে এসেছে।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৬৫টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর বাইরে সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও অন্তত ৪২টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নথিভুক্ত করেছে সংগঠনটি। এসব মরদেহ নদীর তীর, সড়ক, রেললাইন ও মাঠসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বাঁশি নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের বংশী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খেলার মাঠের কাছে নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় তখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা করে।
পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল মরদেহ থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
পরবর্তীতে পুলিশ মরদেহটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয় বলে নিউ এজ জানিয়েছে।
নদী থেকে উদ্ধার মরদেহের একটি অংশ হত্যার পর ফেলা হতে পারে
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান বলেন, সংগঠনটির পর্যালোচনায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অন্য কোথাও হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তার মতে, এসব ঘটনার পেছনে বিভিন্ন ধরনের বিরোধ জড়িত থাকতে পারে। এর মধ্যে জমি, পারিবারিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে।
সাইদুর রহমান আরও বলেন, কোনো মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ব্যক্তিটির কীভাবে মৃত্যু হয়েছে এবং তার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
অজ্ঞাত মরদেহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নদ-নদী থেকে ২০ মাসে ৯২০টি মরদেহ উদ্ধারের পরিসংখ্যান এবং একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয়কে মরদেহ গুমের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে। নদীর স্রোত মরদেহকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে নিয়ে যাওয়ায় এসব ঘটনায় অপরাধের স্থান শনাক্ত করা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
দেশে হত্যা, অপহরণ, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা নিয়মিত সামনে আসার মধ্যেই নদী ও অন্যান্য স্থান থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের এই পরিসংখ্যান প্রকাশিত হলো। তবে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহই হত্যাকাণ্ডের শিকার কিংবা অন্যত্র হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পৃথক প্রতিটি ঘটনার তদন্তের ফলাফল বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au