রামু হামলার ১৪ বছর, বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের
কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে ভয়াবহ হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময়েও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা…
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটপণ্যের ওপর নতুন করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বরের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ৩৬টি বাংলাদেশি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক দিতে হবে। আর তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাটের সুতা বা টুইন রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক দিতে হবে।
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার পর এসেছে। ডিজিটিআর-এর দাবি, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পাটপণ্য ভারতের বাজারে ডাম্পিং করার কারণে দেশটির স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতির মুখে পড়ছে। তবে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পর গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা শুরু করে ডিজিটিআর। বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটপণ্যের ওপর বিদ্যমান অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বাড়ানো প্রয়োজন কি না, তা যাচাই করাই ছিল এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য।
এ জন্য বাংলাদেশে ৫৪টি এবং নেপালে ৩৬টি পাটকল ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৩৮টি এবং নেপালের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তথ্য দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করে।
এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা বা টুইন, হেসিয়ান কাপড় এবং পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত। পরে বাংলাদেশের পাটের বস্তার কাপড়ও এই শুল্কের আওতায় আনা হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ৩৬টি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাটের সুতা, বস্তা ও হেসিয়ান কাপড়ের ওপর প্রতি টনে ৫৯ ডলার থেকে বিভিন্ন হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাটের সুতা রপ্তানিকারক আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওপর প্রতি টনে সবচেয়ে কম ৫৯ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
তবে কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের রপ্তানি করা সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।
এ ছাড়া নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা এবং হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের নতুন প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো বাংলাদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পাটের সুতা বা টুইন রপ্তানি করলে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক দিতে হবে। ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানভেদে শুল্কের পরিমাণে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ ইকোনমিক টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au