অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিক। ছবি: সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিককে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান শুভ্র এই নোটিশ জারি করেন।
দুদক সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তারা তারেক আহমেদ সিদ্দিকের ঠিকানায় গিয়ে তাকে বা তার কোনো অধস্তন কর্মকর্তাকে পাননি। পরে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে নিরাপত্তাকর্মী সাইদুল ইসলামের উপস্থিতিতে তার বাসার প্রাঙ্গণে নোটিশটি টানিয়ে দেওয়া হয়।
দুদক আইন, ২০০৪-এর ১৯ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারার আওতায় নোটিশটি দেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়ে তার বক্তব্য গ্রহণ ও তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
যে অভিযোগে তলব
নোটিশে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, তারেক আহমেদ সিদ্দিকসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের দায়ের করা বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প-সংক্রান্ত একাধিক মামলার মধ্যে এটি একটি।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনটি বিমানবন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে মোট ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তারেক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলা করে দুদক। এর মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলাটিও রয়েছে।
তারেক আহমেদ সিদ্দিক ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন পর্যন্ত তার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সরকার পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য, সাবেক সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সহযোগীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক।
তবে তারেক আহমেদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।