প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি। ছবি : রয়টার্স
মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাকে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর মরক্কোর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ফাতিমা ইজ্জাহরার দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) ৩৯৫ আসনের মধ্যে ৯৭টি আসনে জয় পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল হিসেবে উঠে আসে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস (আরএনআই) পায় ৬৬টি আসন। ফলে পিএএম ৩১ আসনের ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি পিএএম। ১৯৮টি আসন পেলে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হতো। তাই নতুন সরকার গঠনে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে হবে ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরিকে।
নিয়োগের পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি তার দায়িত্ব গ্রহণকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন। এটি শুধু তার নিজের জন্য নয়, দেশের সব নারীর জন্যও গর্বের।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখনই শুরু হবে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আগে নিজের দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করা হবে।
মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতা বা নেত্রীকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন রাজা। ২০১১ সালের সাংবিধানিক সংস্কারের পর এই নিয়ম চালু রয়েছে।
কে এই ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি
৫০ বছর বয়সী ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি পেশায় আইনজীবী ও রাজনীতিক। তিনি ১৯৭৬ সালে মরক্কোর রেহমানা প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদেলরহমান এল মানসুরি মারাকেশের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর রাষ্ট্রদূতও ছিলেন।
ফাতিমা ইজ্জাহরার শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে ফ্রান্সে। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ২০০৮ সালে অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু।
এরপর ২০০৯ সালে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন ফাতিমা। এর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এই শহরের প্রথম নারী মেয়র হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২১ সালে মরক্কোর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানুচের নেতৃত্বাধীন সরকারে আবাসন ও নগর-পরিকল্পনাসংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ফাতিমা। ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। একই সময়ে তিনি মারাকেশের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরকারপ্রধান হলেন ফাতিমা ইজ্জাহরা এল মানসুরি। আরব বিশ্বে সরকারপ্রধান হওয়া দ্বিতীয় নারী তিনি। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স