ঢাবির অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়…
গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বুধবার তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮১১ রানের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। শুবমান গিলের বিধ্বংসী অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরিতে ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য মাত্র ৪৩ দশমিক ৩ ওভারে পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ৪০৫ রান করে। দলটির হয়ে সেঞ্চুরি করেন জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু। জবাবে ভারত মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৪০৬ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয়। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।
৪০৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়ে। এর আগে ওয়ানডেতে দলটির সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৩৮৯ রান। ভারতের বিপক্ষে এই ইনিংসে প্রথমবারের মতো একই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জন ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে ১০১ রান করেন। অধিনায়ক শাই হোপ করেন ৯৪ বলে ১০৪ রান। আমির জাঙ্গু ৭৭ বলে ১১৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁদের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ভারত। শুবমান গিল ও রোহিত শর্মা মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ২৫৫ রান যোগ করেন। মাত্র ৭০ বলে ভারতের দলীয় রান ১০০, ১৩০ বলে ২০০ এবং ১৭৮ বলে ৩০০ ছাড়িয়ে যায়।
রোহিত শর্মা ৭৫ বলে ১০১ রান করে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ছয়টি ছক্কা। এটি ছিল ওয়ানডেতে রোহিতের ৩৫তম সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে ১২ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।
রোহিত ফেরার পর ক্রিজে আসেন বিরাট কোহলি। তিনিও দ্রুত রান তোলেন। ১৯ বলে ২৯ রান করে কোহলি আউট হওয়ার সময় ভারতের স্কোর ছিল ৩২০ রান। ফলে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ৮৬ রান।
তবে তখন ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠেন শুবমান গিল। তাঁর সামনে ছিল ডাবল সেঞ্চুরির সুযোগ। সেই সুযোগ শুধু কাজে লাগাননি, বরং ওয়ানডেতে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংসকে নিয়ে যান ২২৩ রানে।
মাত্র ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গিল। এর মাধ্যমে পুরুষদের ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন ভারতের অধিনায়ক। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ভারতের ইশান কিষানের দখলে। তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০২২ সালে ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন।
গিল শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে ২২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২৬টি চার ও আটটি ছক্কা। ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে এটিই কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
এটি গিলের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৮ রান করেছিলেন তিনি। ফলে ওয়ানডেতে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের তালিকায় রোহিত শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন গিল।
ভারতের অধিনায়ক হিসেবেও গিল ইতিমধ্যে একটি রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে ৬২ বলে সেঞ্চুরি করে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড করেছিলেন তিনি।
৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারত নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ডও গড়েছে। এর আগে ওয়ানডেতে ভারতের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড ছিল ৩৬০ রান। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪০৬ রান করে নতুন ইতিহাস গড়ল দলটি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪০০-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের ঘটনাও খুবই বিরল। ভারত এবার এমন দ্বিতীয় দল হিসেবে ৪০০-এর বেশি রান তাড়া করে জয় পেল। এর আগে ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রানের জবাবে ৪৩৮ রান করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
গুয়াহাটির ম্যাচে আরও একটি বিরল রেকর্ড হয়েছে। ওয়ানডে ইতিহাসে একই ম্যাচে প্রথমবারের মতো পাঁচটি সেঞ্চুরি হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্যাম্পবেল, হোপ ও জাঙ্গু এবং ভারতের হয়ে রোহিত ও গিল শতক পূর্ণ করেন।
গিল ও রোহিতের ২৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটিও ভারতের ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনিং জুটি। ভারতের হয়ে ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ ২৫৮ রান করেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলী। সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন গিল ও রোহিত।
শেষ পর্যন্ত ৪৩ দশমিক ৩ ওভারে ২ উইকেটে ৪০৬ রান করে ভারত। গিল ২২৩ রানে অপরাজিত থাকার সময় তাঁর সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। তিনি অপরাজিত ছিলেন ৩১ রানে।
ফলে ৩৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায় ভারত। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজও ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
সব মিলিয়ে ম্যাচে দুই দল মিলে করেছে ৮১১ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রান ছিল তাদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে ভারতের ৪০৬ রান দেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া। এর সঙ্গে পাঁচ সেঞ্চুরি, দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি এবং গিলের অপরাজিত ২২৩ রানের ইনিংস মিলিয়ে গুয়াহাটির এই ম্যাচটি ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় রান-বন্যায় পরিণত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au