অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা-মাস্টারকার্ডে পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো…
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রে অঞ্চলে তীব্র লড়াইয়ে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। অঞ্চলটির আলামাতা শহর ও আশপাশে টানা তিন দিনের সংঘর্ষে এসব প্রাণহানি ঘটে বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি বাহিনী আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক যোদ্ধাদের কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর তারা তিগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে উত্তরে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আলামাতার রাস্তায় সেনাবাহিনীর ট্যাংক দেখা গেছে।
তিগ্রে অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক দল তিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট বা টিপিএলএফের সঙ্গে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েক মাসের উত্তেজনার পর গত সপ্তাহে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে দুই বছর ধরে চলা তিগ্রে যুদ্ধের অবসান হয়েছিল।
নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষের প্রভাব তিগ্রের পাশের অঞ্চলগুলোতেও পড়েছে। এর মধ্যে আমহারা অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর লালিবেলায় অন্তত ৩৩ জন বিদেশি পর্যটক এক সপ্তাহ ধরে আটকা পড়ে আছেন।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা লালিবেলা ১৩ শতকে পাথর কেটে নির্মিত গির্জাগুলোর জন্য বিখ্যাত। অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।
বিবিসি কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্রিটিশ পর্যটক বলেন, পুরো সপ্তাহজুড়েই তারা লড়াই, গুলির শব্দ এবং কামানের গোলার আওয়াজ শুনেছেন।
লালিবেলার আশপাশে সরকারি বাহিনী এবং তিগ্রের যোদ্ধাদের সঙ্গে মিত্রতা করা একটি আমহারা মিলিশিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইথিওপিয়ার আরও কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে মিলে সাত সদস্যের একটি জোট গঠন করে। জোটটি আদ্দিস আবাবার কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল।
নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়া জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইথিওপিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তিগ্রে এবং আশপাশের এলাকায় টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সেখানে কী ঘটছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে ওই অঞ্চলে সরাসরি গিয়ে প্রতিবেদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
আলামাতার একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, আশপাশের সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে মানুষ শহরটিতে এসে আশ্রয় নেওয়ায় মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
ওই সূত্রের ভাষায়, ব্যাংকিং সেবা, অর্থ স্থানান্তর, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন যোগাযোগ সবই বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন এবং তাদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিয়ে ইথিওপিয়ার সরকার ও টিপিএলএফ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।
টিপিএলএফের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং ড্রোন হামলাও চালায়। এর জবাবে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
অন্যদিকে ইথিওপিয়ার সরকারের দাবি, তিগ্রের যোদ্ধারাই প্রথম হামলা চালিয়েছে এবং তারা অঞ্চলটির কয়েকটি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সংঘর্ষ শুরু হয়।
তিগ্রের যোদ্ধারা একই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আফার অঞ্চলেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়ার সঙ্গে জিবুতি এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রে আফার অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেদসাঁ সঁ ফ্রতিয়ের জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিগ্রেতে তাদের সহায়তাপ্রাপ্ত হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন।
আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আলামাতা শহর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। এতে ভারী বিস্ফোরক ও কামানের গোলা ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি গোলা আবাসিক এলাকাতেও আঘাত হানে।
নিহতদের মধ্যে তিন দিন বয়সী শিশুও রয়েছে বলে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মা ও গবাদিপশু পালনের সঙ্গে যুক্ত মানুষও রয়েছেন।
একটি মাত্র গোলার আঘাতেই আলামাতার বাজার এলাকায় ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর তিগ্রে অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা স্থগিত করেছে ইথিওপিয়ার সরকার। একই সময়ে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ কে দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিগ্রের বাসিন্দাদের পাশাপাশি অঞ্চলটির বাইরে বসবাসকারী তিগ্রিয়ানরাও সমস্যায় পড়েছেন। বিবিসিকে কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন, তিগ্রেতে খোলা তাদের ব্যাংক হিসাবগুলো হয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নয়তো লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
আদ্দিস আবাবায় বসবাসরত এবং দুই মাস আগে মেকেলে থেকে সেখানে যাওয়া এক ব্যক্তি বিবিসির তিগ্রিনিয়া সার্ভিসকে বলেন, অনেক তিগ্রিয়ান বর্তমানে চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।
লালিবেলায় অবস্থানরত ব্রিটিশ পর্যটক জানান, সেখানে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু থাকলেও নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে গত দুই দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সামরিক বাহিনী এখনো যে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছে, সেটি বৃহস্পতিবার আবার চালু হতে পারে বলেও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার সময় লালিবেলায় মোট ৫৩ জন পর্যটক ছিলেন। তাদের কয়েকজনকে এরই মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগের দিন একটি বেসরকারি সংস্থার ব্যবস্থাপনায় আরও পাঁচজন পর্যটক সড়কপথে লালিবেলা ছাড়েন। যদিও ওই সময় সড়কপথে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
এখনো যারা লালিবেলায় আটকা রয়েছেন, তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া একজন ইথিওপিয়ান-নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং একজন মেক্সিকোর নাগরিকও রয়েছেন বলে ওই ব্রিটিশ পর্যটক জানিয়েছেন।
টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় তিগ্রের অনেক পরিবার একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে আদ্দিস আবাবাভিত্তিক তিগ্রে ব্রডকাস্টিং সার্ভিস বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে একটি উদ্যোগ নিয়েছে।
সংস্থাটি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ভিডিও বার্তা সংগ্রহ করবে। পরে সেসব বার্তা স্যাটেলাইট টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে তিগ্রে অঞ্চলে থাকা স্বজনেরা তা দেখতে পারেন।
এদিকে চলমান সংঘর্ষ এবং যোগাযোগ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিগ্রেতে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সংঘর্ষের প্রকৃত মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা এবং বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যাচ্ছে না।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au