সেপ্টেম্বর মাসে ‘মব’ সহিংসতার অন্তত ৬৫টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৭৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের মাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও সংগঠনটির নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এমএসএফ বলছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ‘মব’ সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা কমেছে। তবে এ ধরনের ঘটনা এখনো উদ্বেগজনক। চুরি, ডাকাতি, জমি ও অর্থনৈতিক বিরোধ, বাকবিতণ্ডা এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটেছে।
সেপ্টেম্বরে কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৯। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে এমএসএফ।
রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ও আহত
সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় ৩৮৪ জন আহত এবং অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া অজ্ঞাত হামলায় আরও সাতজন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছে এমএসএফ।
মাসটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৭১টি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী। অপর একজনের বয়স ও লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা কমলেও বেড়েছে আইনি হয়রানি
সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা কিছুটা কমলেও আইনি হয়রানির ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে এমএসএফ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ২৮ জন সাংবাদিক হামলা বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে নয়জন সাংবাদিক আইনি হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন।
ডিজিটাল বা সাইবার আইনে মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। আগস্টে এ ধরনের মামলা ছিল তিনটি, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটটিতে। একই সময়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা তিনজন থেকে বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সেপ্টেম্বরে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমএসএফ। সংগঠনটি বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা এবং একটি জাতিগত নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।
প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ার মহাশ্মশানে গরু জবাই করে পিকনিক আয়োজন এবং চিতা ও সমাধির ওপর জুতা পায়ে ছবি তোলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন ঘটনার তথ্য তুলে ধরেছে এমএসএফ। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও আহত হওয়া, আটক এবং বাংলাদেশিদের ঠেলে পাঠানো বা পুশইনের চেষ্টার ঘটনাগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলিতে একজন বাংলাদেশি আহত হওয়ার তথ্যও জানিয়েছে সংগঠনটি।