ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এএফপি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ আবার সামনে এনেছেন ফুটবল লিকসের প্রতিষ্ঠাতা রুই পিন্টো। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতের ফুটবলে ইনফান্তিনোর কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।
ম্যানচেস্টার সিটি ও পিএসজির আর্থিক ফেয়ার প্লে (এফএফপি) সংক্রান্ত তদন্তের নথি প্রকাশ করে আলোচনায় আসা পিন্টো বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ২০১৮ সালে প্রকাশিত অভিযোগগুলো পুনরায় সামনে আনেন।
কম্পিউটার হ্যাকার হিসেবে পরিচিত পিন্টোর অভিযোগ, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার (উয়েফা) সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ইনফান্তিনো ম্যানচেস্টার সিটি ও পিএসজিকে এফএফপি-সংক্রান্ত কঠোর শাস্তি এড়াতে সহায়তা করেছিলেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডার স্পিগেল ফুটবল লিকসের নথির বরাত দিয়ে সে সময় জানিয়েছিল, এফএফপির শর্ত পূরণ করতে ম্যানচেস্টার সিটি ও পিএসজি তাদের কিছু স্পনসরশিপ চুক্তির মূল্য বাড়িয়ে দেখিয়েছিল। ২০১৪ সালে বিষয়টি নিয়ে দুই ক্লাব শাস্তির মুখে পড়লে ইনফান্তিনো তুলনামূলক কম শাস্তির ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছিলেন বলে ওই নথিতে অভিযোগ করা হয়।
তবে পিএসজি সে সময় অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। ক্লাবটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারা সব সময় আইন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলেছে। এফএফপি চালুর পর পিএসজি সবচেয়ে বেশি নিরীক্ষা ও তদন্তের মুখোমুখি হওয়া ক্লাবগুলোর একটি বলেও দাবি করেছিল তারা।

ফুটবল লিকসের প্রতিষ্ঠাতা রুই পিন্টো। এএফপি
পিন্টো তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ২০১৪ সালেই ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়ম সম্পর্কে জানতেন ইনফান্তিনো। তাঁর অভিযোগ, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইনফান্তিনো নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে তদন্তকারী চেম্বারের প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়েছিলেন এবং ম্যানচেস্টার সিটি ও পিএসজিকে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সহায়তা করেছিলেন। এর ফলে দুই ক্লাব আরও গভীর তদন্ত এবং সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নস লিগ নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পেরেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে পিন্টো আরও বলেন, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে ফিফা সভাপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা বিবেচনায় তিনি মনে করেন, ইনফান্তিনো ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর এবং ভবিষ্যতে ফুটবলে তাঁর কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়।
তবে এসব অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৮ সালে অভিযোগগুলো প্রকাশের সময় উয়েফা ইনফান্তিনোর ভূমিকার ব্যাখ্যা দিয়েছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বের অংশ হিসেবেই এসব বিষয়ে সহায়তা করা হয়। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা, বৈঠক, সমাধানের পথ খোঁজা এবং তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইনফান্তিনোও সে সময় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, এসব কর্মকাণ্ডকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলেও তিনি সৎ ও পেশাদারভাবে ফুটবলের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেই নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।