অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা-মাস্টারকার্ডে পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো…
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় সশস্ত্র সহ-পাইলটকে কাবু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিন যাত্রী। হামলার সময় রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। এরপর তিন যাত্রী মিলে হামলাকারী সহ-পাইলটকে ধরে ফেলেন। পরে বিমানের হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপ টাই দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়।
ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেলআবিব যাচ্ছিল। বিমানের সামনের সারিতে বসেছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক জভিকা ম্যানেস, আসাফ রাজওয়ান ও ইয়ানিভ হায়ুন। ককপিটের দরজা খুলে যাওয়ার পর তাঁরাই প্রথম হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করতে এগিয়ে যান।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পরও তিনি নিজের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এর ফলে যাত্রীরা ককপিটের ভেতরে কী ঘটছে, তা বুঝতে পারেন।
বিমানের ভেতরের সেই সময়ের ঘটনা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান যাত্রী জভিকা ম্যানেস। টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ককপিটের দরজা আংশিক খোলা ছিল। সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় একজন পাইলটকে টাল খেতে খেতে বেরিয়ে আসতে দেখেন তিনি। এরপরই দেখতে পান, ওই পাইলটের সঙ্গে সহ-পাইলটের হাতাহাতি চলছে।
ম্যানেসের ভাষ্য অনুযায়ী, ককপিটের ভেতরের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে ছিল এবং ককপিটের বিভিন্ন অংশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। আহত অবস্থাতেও ভারতীয় পাইলট প্রাণপণে লড়াই করে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন।
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ম্যানেসসহ আরও দুই যাত্রী হামলাকারী সহ-পাইলটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনজন মিলে তাঁকে জাপটে ধরে ফেলেন। এরপর বিমানে থাকা হেডফোন সেটের তার দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়। পরে প্লাস্টিকের জিপ টাই ব্যবহার করেও তাঁকে বেঁধে রাখা হয়।
এদিকে আহত পাইলট স্মিত মচ্ছরকে বিমানের মধ্যেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেন ইসরায়েলি দন্তচিকিৎসক শোতা মোসায়েভ। তিনিও ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন।
হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে আরও দুই পাইলট ছিলেন। তবে ঘটনার সময় তাঁরা ডিউটিতে ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তাঁরাই বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।
তাবুকে অবতরণের পর অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়। আহত ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরও বর্তমানে সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্র:আনন্দবাজার ডট কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au