বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন সংসদ সদস্য সম্পর্কে মন্তব্য করা ঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলীয় ব্যবস্থা ও আইনি ব্যবস্থা আলাদা বিষয়। অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে অভিযোগপত্র দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতের এখতিয়ারে যেতে হবে এবং আইনের আওতায় আসতে হবে।
এরই মধ্যে রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেন্টারের একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম আসে। তাঁদের কয়েকজন মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মিষ্টি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন থাকার কথা বুধবার জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি তখন বলেছিলেন, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, মামলা হচ্ছে, তদন্ত ও গ্রেপ্তার হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কোনো অপরাধ ঘটলে ব্যবস্থা নিতে কখনো ১২ ঘণ্টা বা ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে সরকারের সময়ে অপরাধের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ রয়েছে।