ইরানের আশপাশে ৩ রণতরি, ২ ল্যান্ডিং গ্রুপ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে তিনটি বিমানবাহী রণতরি ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ ওই অঞ্চলে মোতায়েনের পরিকল্পনা করা…
মা গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। অভাবের সংসারে নানা কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন মিশন আচার্য। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তও হয়েছেন তিনি। কিন্তু নিজের কোনো ভিটেবাড়ি বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় এখনো নিয়োগপত্র হাতে পাননি ৩০ বছর বয়সী এই তরুণ।
নিয়োগপত্র পাওয়ার আশায় গত কয়েক দিন ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসকের দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন মিশন আচার্য। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করলেও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তাঁর নিয়োগ আটকে গেছে।
মিশন আচার্য জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তাঁর সঙ্গে ঝিনাইদহ জেলায় আরও ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাঁদের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। দুজন নিয়োগপত্র পাননি। তাঁদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর তিনি স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
মিশন আচার্যের পরিবারে তাঁরা দুই ভাই। তাঁর বড় ভাই শৈলেন আচার্য অন্য একজনের সঙ্গে ভাগে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তাঁদের বাবা নন্দ আচার্যের বাড়ি ছিল যশোরে। মা ময়না আচার্যের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি ঝিনাইদহে বসবাস করলেও পরে পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি বলে জানান মিশন আচার্য।
বাবা চলে যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন ময়না আচার্য। সংসার চালাতে তিনি অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন। সেই আয় দিয়েই দুই ছেলেকে বড় করেন। অভাবের কারণে বড় ভাই শৈলেন আচার্য বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি। তবে মিশন আচার্যের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে মা নিজের কষ্টের উপার্জন ব্যয় করেছেন।
মিশন আচার্য এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকাতেই ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছেন মিশন আচার্য। বর্তমানে তিনি শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদেও কলাবাগানের ঠিকানা দেওয়া রয়েছে। শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁর ভাড়া বাসায় গিয়ে পুলিশি যাচাইও করা হয়। এরপরও স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে তাঁর নিয়োগপত্র আটকে যায়।
মিশন আচার্য বলেন, তাঁর নানা বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে তাঁর বাবা কিছুদিন ছিলেন। তাঁদের নিজস্ব কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় তাঁর মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস ২০২২ সালে পণ্ডিতপুরে বাড়ি করার জন্য তাঁকে দুই শতক জমি দেন। তবে সেখানে এখনো বাড়ি করা সম্ভব হয়নি। চাকরি পাওয়ার পর ওই জমিতে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে থাকার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
চাকরির নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়ে মিশন আচার্য বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, যাচাইয়ে তাঁর কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ কারণেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
মহেশপুর উপজেলার ন্যাপা এলাকার বাসিন্দা জিহাদ হোসেন মিশন আচার্যের সঙ্গে একই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনি নিয়োগপত্র পেয়েছেন। জিহাদ বলেন, মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি শুনে তাঁদের খারাপ লেগেছে। কয়েকজন বন্ধু মিলে তাঁরা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁদের জানানো হয়েছে, বিষয়টির সমাধান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে করতে হবে।
ঝিনাইদহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, মিশন আচার্য ও তাঁর বন্ধুরা এসে অভিযোগ জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত এর একটি সমাধান হবে বলে তিনি আশা করছেন।
মিশন আচার্যের বড় ভাই শৈলেন আচার্য বলেন, তাঁদের জীবন অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে কেটেছে। সেই কষ্টের মধ্যেও তাঁর ভাই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এবং শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এখন নিজের বাড়িঘর না থাকায় চাকরিতে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়াটা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, মিশন আচার্যের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে লিখিতভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা করছেন, বিষয়টির একটি সমাধান হবে।
এর আগে ২০২২ সালে স্থায়ী ঠিকানা ও জমি না থাকার কারণে বরিশালের কলেজছাত্রী আসপিয়া ইসলামের পুলিশে চাকরি আটকে যাওয়ার ঘটনা আলোচনায় এসেছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে তাঁর চাকরি হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au