‘জীবনকে জটিলভাবে ভাবার দরকার নেই’: জন্মদিনে জেমস
বাংলা রকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী ও নগর বাউল জেমসের জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই সংগীতশিল্পী শুক্রবার ৬৩ বছরে পা দিয়েছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে…
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পূজার অন্তত ১০ দিন আগে থেকে দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামন্দির ও মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। একই সঙ্গে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, রংপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপ্রতিমা ও মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে পলাশ কান্তি দে বলেন, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু অতীতের বিভিন্ন ঘটনার কারণে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা মন্দিরের প্রতিমাগুলোর মাথা ভেঙে দেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ ধরনের ঘটনা পূজার আগে আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি।
হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৮ সালে শ্যামলিম্ব রাধাগোবিন্দ মন্দিরে ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলার তদন্ত ও বিচার এখনো শেষ হয়নি। এছাড়া ২০২১ সালের দুর্গাপূজার আগে, পূজার সময় এবং পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং পূজায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল বলে সংগঠনটি দাবি করে।
সংগঠনটির অভিযোগ, বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাঁরা জামিনে বের হয়ে মামলার বাদীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এতে মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগোয় না। এ কারণে যেসব এলাকায় মন্দির বা প্রতিমা ভাঙচুর, হুমকি কিংবা অন্য কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, জড়িত ব্যক্তির রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যা ও মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। পলাশ কান্তি দে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা এবং ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার পাশাপাশি কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সংগঠনটি মোট ৪৬টি ঘটনার দাবি তুলে ধরে।
হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব ঘটনা আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ জন্য নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামন্দির ও মণ্ডপে সরকারি অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পূজার অন্তত ১০ দিন আগে থেকে পূজা চলাকালীন সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের পাশাপাশি দুর্গাপূজার নিরাপত্তা সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং সেল গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আগামী বছর থেকে দুর্গাপূজায় অষ্টমী, নবমী ও দশমী এই তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিও জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার নবমী ও দশমীর ছুটির পাশাপাশি ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নির্বাহী আদেশের পরিবর্তে অষ্টমী, নবমী ও দশমী তিন দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সংবাদ সম্মেলনে মূলত চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আগামী বছর থেকে দুর্গাপূজায় অষ্টমী, নবমী ও দশমী তিন দিন সরকারি ছুটি, প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামন্দিরে সরকারি অর্থায়নে সিসিটিভি স্থাপন ও পূজার ১০ দিন আগে থেকে নিরাপত্তা জোরদার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং দুর্গাপূজার নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং সেল গঠন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au